আজকাল ওয়েবডেস্ক:পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতে গিয়ে শুধুমাত্র বাংলায় ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খন্ডে 'খুন' হন মুর্শিদাবাদের যুবক আলাউদ্দিন শেখ(৩০)।

তাঁর বাড়ি বেলডাঙা থানার অন্তর্গত সুজাপুর-তাতলাপাড়া গ্রামে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয় গোটা জেলা জুড়ে। এবার মৃত শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়াল রাজ্য সরকার। 

শুক্রবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক নীতিন সিংঘনিয়া বেলডাঙায় গিয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ প্রত্যাহারের আবেদন করেন।

তিনি বলেন, "মৃত আলাউদ্দিন শেখের পরিবারের একজন সদস্যকে সাতদিনের মধ্যে রাজ্য সরকারের কোনও একটি দপ্তরে চাকরি দেওয়া হবে। সেই সঙ্গে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবেন পরিবারের সদস্যরা। তাছাড়া ভিনরাজ্যে কর্মরত পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলা প্রশাসনের তরফে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। যেকোনও পরিস্থিতে ২৪ ঘন্টা সেখানে পরিষেবা পাওয়া যাবে।"

পাশাপাশি পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিনরাজ্যে নিরাপওা সুনিশ্চিত করতে তাঁদের সচিত্র পরিচয়পত্র তৈরির বিষয়ে মুখ্যসচিবের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলার সুপার কুমার সানি রাজ বলেন, "আলাউদ্দিন শেখের খুনের ঘটনায় একজন ডিএসপির নেতৃত্বে একটি তদন্তকারী টিম আজই ঝাড়খন্ডের পালামৌ জেলার বিশ্রামপুর যাচ্ছে।" জেলাশাসকের আশ্বাসে প্রায় সাত ঘন্টা পর অবরোধকারীরা আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন।

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা হওয়া  এবং বাংলা ভাষায় কথা বলার অপরাধে ঝাড়খণ্ডে ফেরিওলার কাজে কর্মরত এক যুবককে 'খুন' করে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন মৃতের পরিবারের লোকজন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সকাল থেকে ১২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ করে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখান বেলডাঙার সুজাপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

যার জেরে মুর্শিদাবাদ থেকে উত্তর এবং দক্ষিণবঙ্গগামী  এই  সড়কে ব্যপক যানজটের সৃষ্টি হয়। সেই সঙ্গে বেলডাঙা স্টেশনে রেল অবরোধও করেন উত্তেজিত জনতা।

ফলে এদিন সকাল থেকেই শিয়ালদহ -লালগোলা শাখার ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে। শুক্রবার সকাল থেকে বেলডাঙা থানার পুলিশ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও অবরোধ তুলতে অস্বীকার করেন স্থানীয়রা। পরে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

সম্প্রতি ওড়িশার সম্বলপুরে বাংলায় কথা বলার অপরাধে জুয়েল রানা নামে এক  পরিযায়ী শ্রমিককে পিটিয়ে খুন করার অভিযোগ ওঠে কিছু দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে।

এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই চেন্নাইতে কাজ করতে যাওয়া  মুর্শিদাবাদের সুতি থানার অন্তর্গত হাড়োয়া গ্রামের বাসিন্দা আমাই মাঝি নামে এক যুবককে খুন করার অভিযোগ তুলেছেন তাঁর  পরিবারের সদস্যরা।

তারই মধ্যে ফের মুর্শিদাবাদের পরিযায়ী শ্রমিকের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা জেলা জুড়ে। বেলডাঙার স্থানীয় বাসিন্দা মহম্মদ নাজমুল হক বলেন, "বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য রাজ্যের বাইরে হেনস্থা হতে হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে। আজ আমরা আমাদের এক ভাইকে হারালাম। তারই প্রতিবাদে আজ আমরা রাস্তায় নেমেছিলাম।" 

তিনি আরও বলেন,''এটা কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়। এখন আমরা পশ্চিমবঙ্গের বাইরে যেতেই ভয় পাচ্ছি। সেখানে যেকোনও সময় আমাদের উপরও হামলা হতে পারে। আগামী দিনে আমাদের উপর আরও বড় বিপদ নেমে আসতে চলেছে। এখন থেকেই আমাদের হিন্দু-মুসলমান ভাইদের একত্রিত হয়ে এর মোকাবিলা করতে হবে।"

স্বাধীন দেশে বসবাস করে কেন বারবার হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে তাঁদের বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এদিন প্রায় সাত ঘন্টা অবরোধের পর দুপুরে আন্দোলন প্রত্যাহার করেন আন্দোলনকারীরা।