আজকাল ওয়েবডেস্ক: এমনিতেই গৌতম গম্ভীরকে তাঁর ভাবলেশহীন মুখের জন্য নানারকম ভাবে রসিকতা করা হয়। তার ওপর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন পুরো টুর্নামেন্ট জুড়েই গম্ভীর মেজাজে দেখা গিয়েছে ভারতীয় দলের হেড কোচকে।

দল জিতলেও তাঁর মুখে হাসি দেখা যায়নি। তাঁকে হাসানোর বারবার চেষ্টা করেছিলেন দলের ক্রিকেটাররা। কিন্তু সেই বহু কাঙ্ক্ষিত হাসি দেখা গিয়েছে শুধুমাত্র ফাইনাল জয়ের পরই।

এমনটাই জানালেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। আহমেদাবাদে ভারতের শিরোপা জয়ের পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সূর্যকুমার বলেন, টুর্নামেন্টের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত গম্ভীরের তীব্র মনোযোগই দলের পরিবেশকে অত্যন্ত মনঃসংযোগী করে রেখেছিল।

তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ চলাকালীন আমরা অনেকবার চেষ্টা করেছি কোচকে হাসানোর। কিন্তু প্রথম ম্যাচ থেকে ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচ এতটাই তীব্র ছিল যে সেই সুযোগ খুব একটা আসেনি। তবে ফাইনাল জয়ের পর যখন আমরা তাঁর মুখে সেই হাসি দেখলাম, তখন সবাই খুব খুশি হয়েছিল।’

গৌতম গম্ভীরকে সাধারণত প্রকাশ্যে আবেগ দেখাতে খুব কমই দেখা যায়। খেলোয়াড়ি জীবনেও যেমন তাঁর মধ্যে ছিল প্রবল প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, কোচ হিসেবেও সেই একই মানসিকতা বজায় রেখেছেন তিনি।

দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ফলাফল যাই হোক না কেন, গম্ভীর সবসময়ই দলের সামনে একাগ্রতা ও দৃঢ়তার বার্তা দিয়েছেন। তবে আহমেদাবাদে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ের মুহূর্ত যেন সাময়িকভাবে বদলে দিয়েছিল সেই দৃশ্য।

প্রতিটি ম্যাচকে যিনি যুদ্ধের মতো দেখেন, সেই গম্ভীরের মুখে হাসি দেখাটা ছিল দলের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। প্রসঙ্গত, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামের ভিভিআইপি বক্সে ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনিকেও দেখা যায় রোহিত শর্মা এবং জয় শাহের সঙ্গে।

ম্যাচ শেষে ধোনি ইনস্টাগ্রামে একটি বিরল পোস্ট করেন, যা মুহূর্তের মধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। নিজের ইনস্টাগ্রাম পোস্টে ধোনি গম্ভীরের হাসির প্রশংসা করেন।

লেখেন, ‘হাসলে কোচ সাবকে ভালই দেখতে লাগে।' এমনকী, গম্ভীরের ম্যানেজমেন্টের তীব্রতা ও নেতৃত্বের গুণেরও উল্লেখ করেন। ধোনির এই আবেগঘন বার্তা খুব দ্রুতই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়।

ধোনির সেই পোস্টের মন্তব্যে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন গৌতম গম্ভীরও। পোস্টের জবাব দিয়ে তিনি লেখেন, ‘হাসার জন্য এর চেয়ে ভাল কারণ আর কী হতে পারে! তোমাকে দেখে ভাল লাগল।’

গৌতম গম্ভীর এবং এমএস ধোনি দীর্ঘদিনের সতীর্থ। ২০০৭ এবং ২০১১ সালে ধোনির নেতৃত্বেই টি-টোয়েন্টি এং ওডিআই বিশ্বকাপ জেতে ভারত। দুটি ফাইনালেই ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন জিজি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় ধোনি ও গম্ভীরের সম্পর্ক নিয়ে নানা জল্পনা ছড়ালেও বাস্তবে দু’জনেই বারবার সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছেন।

বিভিন্ন সময়ে পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমেই তারা সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছেন। সূর্যকুমারদের ফাইনাল জয়ের পর ধোনি এবং গম্ভীরের এই কথোপকথন সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।