বিভাস ভট্টাচার্য: চিকিৎসক থেকে ফেরিওয়ালা। রয়েছেন শিক্ষক, অধ্যাপক এবং অন্যরাও। সেভাবে 'মেইনস্ট্রিম মিডিয়া' না দেখা গেলেও দিন বদলের স্বপ্ন নিয়ে যে যার এলাকায় লড়াই করছেন। তাঁদের দল সোশালিষ্ট ইউনিটি সেন্টার অফ ইন্ডিয়া (কমিউনিস্ট) বা এসইউসিআই-এর হয়ে। যে যার এলাকায় দিন-রাত এক করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই, লড়াইটা জোরদার করা। 

ডাঃ অংশুমান মিত্র। ছাত্রাবস্থায় যুক্ত হন এই দলে। বন্যা থেকে মহামারী বা অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বড় কোনও দুর্ঘটনা বা সিঙ্ঘু সীমান্তে আটকে পড়া কৃষক আন্দোলনের আন্দোলনকারীদের চিকিৎসা, কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করার পরেই দলের চিকিৎসক 'সেল'- এর তরফে ছুটে গিয়েছেন বা যান দেশের নানা প্রান্তে। ডাঃ অংশুমান এ বছর কলকাতা জোড়াসাঁকো কেন্দ্র থেকে এসইউসিআই-এর প্রার্থী। এবছরই প্রথম ভোটে লড়ছেন। কেন বাকি প্রার্থীদের ছেড়ে ভোটাররা আপনাদের ভোট দেবেন? 

উত্তরে ডাঃ অংশুমান জানান, "বাকি যে দলগুলো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে তারা সবাই পরীক্ষিত। এরা লোককে বলেছে এক কথা, করেছে অন্য জিনিস। স্বাস্থ্য, শিক্ষা বা স্থানীয় যেই যেই বিষয় নিয়ে রাজ্য এবং  দেশের মানুষ এইমুহুর্তে জেরবার হয়ে উঠেছে তার প্রতিটি বিষয় নিয়ে আমরা রাস্তায় লড়াই করছি। সেগুলোকেই আমরা বিধানসভায় নিয়ে যেতে চাই। সেই জন্যই লোকেরে কাছে আমাদের প্রার্থনা তাঁরা যেন আমাদের সুযোগ দিয়ে দেখেন।" 

জায়গা বা পেশা আলাদা হলেও দলের বাকিদের মতোই চাঁদিফাটা এই গরমে দিনরাত এক করে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী গোরা জমাদার। পেশায় তিনি 'হকার' বা ফেরিওয়ালা। জীবন-জীবিকার জন্য সকাল হতেই সাইকেল ভ্যান চালিয়ে বেরিয়ে পড়েন। যান বাড়ি বাড়ি। খোঁজ নেন পুরনো বই-খাতা বা লোহালক্কর বিক্রি আছে কি না। গোরা জমাদারের কথায়, "সেই ছেলেবেলা থেকেই এসইউসিআই-এর সঙ্গে যুক্ত। পেশার সুবাদে এই এলাকা চিনি হাতের তালুর মতো। ফলে প্রচারে বিন্দুমাত্রও কিছু অসুবিধা হচ্ছে না।" 

ভোট চাইতে গিয়ে বাড়ি বাড়ি কী বলছেন? গোরার কথায়, "সুযোগ দিন। তারপর দেখুন মুখে যেগুলো বলছি কাজে সেগুলো করছি কি না। রাস্তায় যে লড়াইটা আমরা জনসাধারণের জন্য করছি সেই লড়াই এবার নিয়ে যেতে চাই বিধানসভায়।" পেশা আলাদা। কিন্তু ডাঃ অংশুমান মিত্র এবং গোরা জমাদার-সহ এবছর এই দলের হয়ে প্রার্থী হওয়া মোট ২৩০ জন, লক্ষ্যটা কিন্তু সকলেরই এক।