আর্যা ঘটক: বারাসতে আবারও তৃণমূলের দাদাগিরি। বারাসত ব্যারাকপুর রোডের উপরে এক জমিতে একটা পুকুর ছিল। যাদের পুকুর, সেই পরিবারের দাবি, তাদের জানানো হয়েছিল- পুকুর বুজিয়ে অন্য জায়গায় পুকুর করা হবে৷ আর এই কথা বলেছিল তৃণমূলের এক সদস্য প্রমোটার সুশান্ত চ্যাটার্জি। বিপুল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়৷ প্রমোটার বলেছিল ওই জমিতে তার একটা কন্সট্রাকশন বানাবে।
কিন্তু পুকুরের মালিকপক্ষ রাজি হয়নি। অভিযোগ এরপরই তাদের উপর জোরজুলুম শুরু হয়। জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত প্রমোটার ওয়েস্ট রোড হাইটস, নামক এক কন্সট্রাকশন কোম্পানির মালিক৷
এরপর পরিবারের সদস্যরা হন্যে হয়ে বারাসত থানায় যায়। সেখানে জানায় যে তাদের জমিতে অবৈধভাবে পুকুর বোজানো হচ্ছে। পুলিশ তাদের কোনও কথা শোনেনি। অভিযোগ নেওয়া হয়নি। উপায় না দেখে এরপর অভিযোগকারী পরিবার দত্তপুকুর থানায় পৌঁছয়৷ অভিযোগ, দত্তপুকুর থানা থেকে পুলিশ এসে উল্টে তাদেরই লোকজনকে হুমকি দেয়৷ এর কিছুদিন পর জমির আরও কিছু শরিক নিয়ে দত্তপুকুর থানায় যায় ওই পরিবার। তাতেও লাভ হয়নি। সেখান থেকে ধমক দিয়ে পরিবারকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।
এসবের পর শুরু হয় পুকুর ইন্সপেকশন। পরিবারের অভিযোগ, নিজের জমিতেই ঢুকতে পারতেন না তাঁরা। আটকে দেয় বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষী। ইতিমধ্যেই পুকুর প্রায় বুজিয়ে ফেলেছে অভিযুক্ত প্রমোটার। অন্য এক জায়গায় পুকুরও খুঁড়তে শুরু করে ওই অভিযুক্ত। অভিযোগ পুকুর ও জমির পরিবর্তে পরিবারের সমস্ত শরিককে বিপুল পরিমান টাকা ও অন্য সম্পত্তি দেওয়ার কথা দিয়েও সে কথা রাখেননি অভিযুক্ত।
গোটা বিষয়টি বিগত আট-নয় মাস ধরে ওইভাবেই পড়ে রয়েছে। জানা গিয়েছে, আর মাত্র একটা ইন্সপেকশন বাকি রয়েছে। সেইটা হলেই জমির প্রকৃতি বদল হয়ে যাবে। পরিবারের দাবি, তৃণমূলের আমলে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, কিন্তু এখন সরকার বদলের পর যেন এর সুরাহা হয়। তাদের উপর তৃণমূলের বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামীর চ্যালা ওই প্রমোটার সুশান্ত চ্যাটার্জি ও তাঁর ছেলে রাজেন্দ্র চ্যাটার্জির এই অত্যাচারের ফয়সালা চাইছে পরিবারটি৷
পরিবারের এক সদস্যের বক্তব্য, "নারায়ণ গোস্বামীর মদতে আমাদের উপর ওই প্রমোটার প্রচণ্ড অত্যাচার করেছে। থ্রেট দিয়েছে। জোরজুলুম করেছে। আমাদের উপর তৃণমূলের সদস্যরা স্ক্যাম করেছে।" সদস্য আরও জানান যে, তাদের বাড়ির একজনকে নারায়ণ গোস্বামীর অফিস জেলা পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অভিযুক্ত প্রমোটার নিয়ে গিয়েছিল। তবুও সেখানে কোনও ফয়সালা হয়নি।
পরিবারের এক সদস্য জানান, পরিবারের কেউ সই না করা সত্ত্বেও তৃণমূলের সদস্যরা তাঁদের মত কাজ এগিয়ে নিয়েছে৷ নতুন সরকারের কাছে পরিবারের একমাত্র দাবি, অবৈধভাবে তৃণমূলের এই কাজ যেন পূরণ না হয়৷ এর পূর্ণ তদন্ত হোক৷















