আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকারি শিবিরের হুড়োহুড়ি উপচে পড়া ভিড়, দমবন্ধ করা গরম, আর একটুখানি সহায়তার আশায় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা। কিন্তু সেই কারণেই যে মৃত্যু হবে, তা কে জানত! সরকারি সুবিধা পাওয়ার আশায় শিবিরের লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন সাঁকরাইলের প্রৌঢ়া শিপ্রা দাস (৫০)। নিজের প্রাপ্যটুকু বুঝে নেওয়ার আগেই প্রচণ্ড গরমে আর ভিড়ের চাপে নিভে গেল তাঁর প্রাণ। বুধবার হাওড়ার সাঁকরাইলের আন্দুলে জনকল্যাণ শিবিরের তৃতীয় দিনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়ে রইলেন এলাকার মানুষজন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার ছিল ব্লক প্রশাসনের জনকল্যাণ শিবিরের শেষ দিন। স্বভাবতই ফর্ম জমা দেওয়া বা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিশ্চিত করতে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল আন্দুলের শিবির চত্বরে। বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে লাইনের দৈর্ঘ্য এবং রোদের তেজ। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় প্রচণ্ড ভিড়ের চাপ ও গরমে আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন বছর পঞ্চাশের শিপ্রা দেবী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ভিড়ের মধ্যে হঠাৎই ছটফট করে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে একটি স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য উলুবেড়িয়ার একটি বড় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন। দুর্ভাগ্যবশত, উলুবেড়িয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

ঘটনার পর সাঁকরাইল ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা জানান, প্রতিটি শিবিরেই সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল। কিন্তু শেষ দিনের অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটে গিয়েছে। 

এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভের হাওয়া। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, যেখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, সেখানে কেন ভিড় সামলানোর আরও আঁটসাঁটো ব্যবস্থা বা পর্যাপ্ত পানীয় জলের বন্দোবস্ত ছিল না?

জনকল্যাণ শিবিরের উদ্দেশ্য ছিল মানুষের মুখে হাসি ফোটানো, কিন্তু শেষ দিনে প্রশাসনের অব্যবস্থা আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে এক পরিবারের হাসিমুখ চিরতরে কেড়ে নিল এই শিবির।