মিল্টন সেন, হুগলি: মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পর পর দু'টি দুর্ঘটনা। একটিতে একসঙ্গে চারজনের মৃত্যু। অপরটি, গাড়িতেই অগ্নিদগ্ধ চালকের মৃত্যু। 

 

প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার, সিঙ্গুরে। ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কে। একটি পথ দুর্ঘটনায় চার জনের মৃত্যু হয়। গয়ায় পিন্ড দান করে ১০৭ গাড়ি করে বাড়ি ফিরছিলেন ১০ জন। সিঙ্গুরের রতনপুর এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ডাম্পারের পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে গাড়িটি। তাতেই চারজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

 

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার ভোর রাতে সিঙ্গুরের গোপালনগর এলাকায় ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের ডানকুনিমুখী লেনে। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সড়কের ডানকুনিমুখী লেনে প্রথমে চলন্ত দু'টি ডাম্পারের সংঘর্ষ হয়। তাতে একজন আহত হন।

 

এরপরেই জাতীয় সড়কে চলতে থাকা গাড়িগুলির গতিবেগ বেশ অনেকটাই কমে যায়। ধীর গতিতে যান চলাচলের মাঝেই হঠাৎ একটি চলন্ত গাড়ির পিছনে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সজোরে ধাক্কা মারে বালিবোঝাই একটি গাড়ি। এর ফলে গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে মুচড়ে যায় এবং গাড়ির সামনের দিকের অংশে আগুন লেগে যায়। 

 

জাতীয় সড়কের উপরেই দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে গাড়িটি। ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ খবর দেয় দমকল বাহিনীকে। দমকলের একটি ইঞ্জিন এসে আগুন নেভায়। ততক্ষণে গাড়ির ভিতরে আটকে পড়া চালকের অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয়। 

 

অপরদিকে সামনে যে দু'টি ডাম্পারের সংঘর্ষ হয় সেই ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হন। তাঁকে উদ্ধার করে সিঙ্গুর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে পাঠানো হয়েছে। তবে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত চালকের পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সুন্দর মান্না বলেছেন, রাতে একটার পর একটা গাড়ির সঙ্গে অন্য একটি গাড়ির ধাক্কা লাগে। তখন একটা গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। গাড়ির ভিতরে তখন ছিলেন একজন। তিনি বেরিয়ে আসতে পারেননি। ফলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। 

 

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সিঙ্গুরে পথ দুর্ঘটনায় একটি গাড়িতে আগুন লেগেছিল। গাড়ির চালক বেরিয়ে আসতে পারেননি। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় চালকের মৃত্যু হয়েছে। তবে গাড়িটিতে কীভাবে আগুন লাগল তা এখনও স্পষ্ট নয়।

ছবি: পার্থ রাহা।