আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের ভরাডুবির পর, বহু বাম সমর্থকের মুখেই শোনা গিয়েছিল, রাজ্যে এবার বিজেপির প্রতিপক্ষ বামেরাই। ফলতার পুনর্নিবাচন যেন ঠিক করে দিচ্ছে রাজ্যের ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপথ। ঠিক প্রমাণ করছে ওই সমর্থকদের মন্তব্যই। 

 

কারণ, ফলতায় পুনর্নিবাচনের গণণায় ২১ রাউন্ডের মধ্যে ১০ রাউন্ড শেষে-

 

বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার প্রাপ্ত ভোট- ৬৪,২৩৮।

বাম প্রার্থী শম্ভু নাথ কুড়মির প্রাপ্ত ভোট- ২৫,২৯৮।

কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রেজ্জাক মোল্লার প্রাপ্ত ভোট- ৬৪২৯।

তৃণমূল কংগ্রেসের জাহাঙ্গীর খানের প্রাপ্ত ভোট- ৩৩০৪।

 

অর্থাৎ 'ঝুঁকেগা নেহি' বলে গর্জে ওঠা জাহাঙ্গীরের বিজেপি প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোটের থেকে এখনও পর্যন্ত পার্থ্যক্য প্রায় ৬১ হাজার। আর বাম প্রার্থীর থেকে পিছিয়ে প্রায় ২২ হাজার ভোটে। 

 

 

২৬-এর নির্বাচনে ফলতা এক অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে থেকে যাবে, নিঃসন্দেহে। ফলতা। অভিষেক ব্যানার্জির ডায়মন্ড হারবার মডেলের ফলতা। যে ডায়মন্ড হারবার থেকেই অভিষেক গত লোকসভা ভোটে লাখখানেকের বেশি ভোটে জিতেছিলেন, নিজের কেন্দ্রকে রাজ্যের মধ্যে মডেল বানাতে চেয়েছিলেন, তাঁরই এক শক্ত 'পিলার' ছিলেন জাহাঙ্গীর। সেই জাহাঙ্গীর ভোটের ভরাডুবির পরে, উপনির্বাচনের আগে, ভোটে লড়বেন না বলে নিজেকে ভোট থেকে সরিয়ে নেন। রাজনৈতিক মহলে সেদিন থেকেই চর্চা, তৃণমূলের প্রার্থীর এহেন পলায়নকে ঘিরে। দল আবার স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, জাহাঙ্গীরের সিদ্ধান্তের সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই। তার পরেও দল কেন কঠোর নয় জাহাঙ্গীরকে নিয়ে, সেই আলোচনায় বিবাদ তৈরি হয়েছে কালীঘাটেও, হয়েছে মতানৈক্যও। তবে, জাহাঙ্গীরের পলায়ন যে অভিষেকের ডায়মন্ড মডেলের কফিনে শেষ পেরেক, তা নিয়ে মতানৈক্য নেই।

 

অন্যদিকে এই ফলতার পুনর্নিবাচনই যেন প্রমাণ করছে, সুষ্ঠ লড়াইয়ে, এই বাংলায় বিজেপির প্রতিপক্ষ হয়ে ধীরে ধীরে ফিনিক্স পাখির মতো ফিরছে বামেরাই! বিধানসভায় রানা পৌঁছতেই এক থেকে একশতে ফেরার যে কথা লালা পতাকা ভাসিয়েছে হওয়ায়, ফলতা কি তাতেই অক্সিজেন দিচ্ছে একটু একটু করে? প্রতি ঘণ্টায়?