আজকাল ওয়েবডেস্ক:  হঠাৎ করে বিকল হয়ে গেল ট্রেনের ইঞ্জিন। ভোগান্তির শিকার হলেন যাত্রীরা। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার মুর্শিদাবাদে। 

 

 

শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে নিউ আলিপুরদুয়ারগামী তিস্তা তোর্সা ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে প্রতিদিনের মতোই। মুর্শিদাবাদের আহিরণ ব্রিজের আগে হঠাৎই দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেন। জানা গিয়েছে, ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গিয়েছিল সেটির। অনেকক্ষণ পরে ফারাক্কার দিক থেকে একটি ইঞ্জিন এসে ট্রেনটিকে গন্তব্যের দিকে নিয়ে যায়।

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার শিয়ালদহ থেকে ট্রেনটি যথাসময়েই ছেড়েছিল। এরপর জঙ্গিপুর রোড স্টেশনে সময়ের কিছুক্ষণ আগেই ট্রেনটি পৌঁছে যায়। ফলে ট্রেনটি মুর্শিদাবাদের ওই স্টেশনে বেশ খানিকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। এরপর জঙ্গিপুর রোড স্টেশন ছাড়িয়ে ট্রেনটি যখন আহিরণ হল্ট থেকে সুজনিপাড়া হল্ট স্টেশনের দিকে যেতে শুরু করে সেই সময় ঘটে বিপত্তি। হঠাৎই ট্রেনের গতি কমতে শুরু করে। এরপর একসময় ট্রেনটি সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে যায়। ট্রেনের ইঞ্জিনে কিছু ত্রুটি দেখা দেওয়াতে চালক বহু চেষ্টা করেও সেটিকে চালু করতে পারেননি। পরে ঘটনার খবর পেয়ে ফারাক্কার দিক থেকে একটি ইঞ্জিন এসে ট্রেনটিকে নিয়ে গন্তব্যের দিকে রওনা দেয়।

 

 

সামিউল হক নামে এক ভুক্তভোগী যাত্রী জানিয়েছেন, তিস্তা-তোর্সা ট্রেন ধরে শুক্রবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সময়ে শিয়ালদহ থেকে ছাড়লেও ট্রেন থেমে যায় মাঝপথে। প্রথমে মনে হয়েছিল সিগন্যাল না পাওয়ার কারণে ট্রেনের গতি কমেছে। একসময় ট্রেনটি সম্পূর্ণ দাঁড়িয়ে যায়। পরে জানা যায়, ট্রেনের ইঞ্জিন খারাপ হয়ে গিয়েছে। ট্রেনটি আহিরণ হল্ট এবং সুজনীপাড়া হল্ট স্টেশনের মাঝখানে প্রায় দু'ঘণ্টা দাঁড়িয়েছিল। অনেকেই উপায়ান্তর না দেখে ট্রেন থেকে নেমে পড়ে লাইন ধরে হাঁটতে শুরু করে দেন।

 

 

যাত্রীরা রেলের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, ভারতীয় রেলে রক্ষণাবেক্ষন প্রায় শূন্যে এসে পৌঁছেছে। তার ফলে এই ধরণের ঘটনা বারবার ঘটছে এবং সাধারণ মানুষ দুর্ভোগের মধ্যে পড়ছেন। প্রসঙ্গত, মাত্র কয়েকদিন আগে ফারাক্কার খোদাবন্তপুর এলাকায় চলন্ত অবস্থায় একটি মালগাড়ি বেশ কিছু বগি ইঞ্জিন থেকে ছিন্ন হয়ে যায়। সেই সময়ও রেলের বিরুদ্ধে যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবের অভিযোগ উঠেছিল।