ইন্দ্রজিৎ সাহু: শীতের রাতে একটু উষ্ণতার খোঁজই কাল হয়ে দাঁড়াল এক নিঃসঙ্গ মহিলার। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার সবং ব্লকের দাঁদরা অঞ্চলের কলসবাড় এলাকায় শীতে আগুন পোহাতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক মহিলার। মৃতার নাম মমতা ধোলা। বয়স আনুমানিক ৪৮ বছর। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মমতা ধোলা দীর্ঘদিন ধরে ওই বাড়িতে একাই বসবাস করতেন। তাঁর দুই ছেলে ভিন রাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। পরিবারের অন্য কোনও সদস্য তাঁর সঙ্গে থাকতেন না। ফলে সমাজ ও পরিবারের মূল স্রোত থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন হয়েই তাঁকে দিন কাটাতে হত।
গ্রামবাসীদের দাবি, গত ১৪ জানুয়ারি বুধবার বিকেল নাগাদ তাঁকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। তারপর টানা দু’দিন তাঁর কোনও খোঁজ না পাওয়ায় প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে থাকে। শুক্রবার বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার দিকে কয়েকজন প্রতিবেশী বাড়ির সামনে এসে জানালা ঠেলে ঘরের ভিতরে উঁকি দেন। সেই সময় ঘরের মেঝেতে কালচে পোড়া অংশ ও ছাই পড়ে থাকতে দেখে তাঁদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
তৎক্ষণাৎ বিষয়টি সবং থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দরজা ঠেলে ঘরের ভিতরে ঢুকতেই হতভম্ব হয়ে যান পুলিশকর্মীরা।
ঘরের মেঝের উপর সম্পূর্ণ অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিল মহিলার দেহ। আগুনে দেহ প্রায় ভস্মীভূত হয়ে যাওয়ায় প্রথমে শনাক্ত করতেও সমস্যা হয়। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে মৃতার পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পুলিশ দেহ উদ্ধার করে সবং থানায় নিয়ে যায় এবং ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। যদিও প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, শীতের রাতে কেরোসিনের কুপি জ্বালিয়ে শুয়েছিলেন মমতা ধোলা। কোনও এক সময় অসাবধানতাবশত সেই কুপি বিছানার উপর পড়ে গেলে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং তাতেই অগ্নিদগ্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু ঘটে থাকতে পারে।
তবে এই মৃত্যুকে ঘিরে অন্য কোনও রহস্য বা অস্বাভাবিকতার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না তদন্তকারীরা। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে শনিবার খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছবে তদন্তকারী দল।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশীদের অনেকেই জানান, নিঃসঙ্গ জীবনযাপনের কারণেই হয়ত সময়মতো কেউ তাঁর পাশে পৌঁছতে পারেননি। একা থাকা মানুষের নিরাপত্তা ও সামাজিক নজরদারি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে এই মর্মান্তিক ঘটনা।
