আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসএসসি দুর্নীতি মামলায় এবার রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে তলব করতে পারে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি।

তবে এখনই নয়, জানা যাচ্ছে দোল মিটে গেলেই এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের ডাক পড়তে পারে। উল্লেখ্য, প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এর আগে তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করেছিল।

এই একই মামলায় তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কেও গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বর্তমানে দু’জনেই জামিনে মুক্ত। প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে এর আগে।

তবে এর পাশাপাশি এসএসসি দুর্নীতির আলাদাভাবে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এই মামলায় নতুন করে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী এবং তাঁর বান্ধবীকে জিজ্ঞাসাবাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন জেলবন্দি পর সম্প্রতি জামিন পেয়েছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তার আগে জামিনে মুক্তি পান অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ও। প্রাথমিক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তদন্ত চালাচ্ছে ইডি এবং সিবিআই দুই সংস্থাই।

পাশাপাশি এসএসসি দুর্নীতি মামলায়ও ইডি চার্জশিট দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পার্থ ও অর্পিতার নাম উঠে আসায় ফের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে ইডি সূত্রে।

মঙ্গলবার দোল এবং বুধবার হোলি রয়েছে। চলতি সপ্তাহে ছুটির মেজাজ রাজ্যজুড়ে। ফলে, সব মিটলে আগামী সপ্তাহেই তাঁদের দুজনকে ডাকা হতে পারে বলে জানা গিয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ২২ জুলাই দক্ষিণ কলকাতার নাকতলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে রাতভর তল্লাশি চালায় ইডি আধিকারিকরা।

এরপর ২৩ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সিবিআই পার্থকে গ্রেপ্তার করে। তিন বছরের বেশি সময় ধরে জেলবন্দি ছিলেন রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।

এর আগে একাধিকবার জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। পরে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় যে, শর্তসাপেক্ষে জামিন পেতে পারেন পার্থ। অবশেষে গত নভেম্বরে জামিন পান তিনি।

ইডি মামলায় পার্থের জামিন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় যে সমস্ত নীচুতলার কর্মী, আধিকারিকরা জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁরা বেশিরভাগই জামিন পেয়েছেন।

এক ব্যক্তিকে দীর্ঘদিন এ ভাবে জেলে রাখা সম্ভব নয়। একই কারণে ইডির মামলায় জামিন পেয়েছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। ফলে সিবিআই মামলায় পার্থও জামিন পেতে পারেন।

শর্ত সাপেক্ষে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এমএম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এনকে সিংয়ের বেঞ্চ তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। একাধিক শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়।

তাঁর বন্ডে সই করা হয়। জামিনের শর্ত হিসেবে, পার্থকে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে, পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে, কোনওভাবেই এলাকা ছাড়তে পারবেন না। এছাড়াও ৯০ হাজার টাকা জমা দিতে হবে।

সুপ্রিম কোর্ট কয়েক মাস আগেই বলে দিয়েছিল, সিবিআইয়ের মামলায় বিচারপর্ব শুরু হলেই পার্থ, সুবীরেশ এবং এসএসসি-র উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিংহের শর্তাধীন জামিন মঞ্জুর করা যাবে।

১৪ নভেম্বরের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে চূড়ান্ত জামিন মঞ্জুর করার নির্দেশ দেওয়া হয়। এরপরেই মামলার চার্জ গঠন করে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু করেন আলিপুর সিবিআই বিশেষ আদালত।

আট জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে সিদ্ধান্ত হয়। সিবিআই সাক্ষীদের নাম প্রস্তাব করে। সেই অনুয়ায়ী, সোমবার অষ্টম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। গত দু’মাস ধরে এই সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব চলছিল।

সাক্ষী ছিলেন এসএসসির প্রোগ্রাম অফিসার তপোজ্যোতি বসু। নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে ইডির মামলায় গত জানুয়ারি মাসেই জামিন পেয়েছিলেন পার্থ। পরে সিবিআইয়ের মামলায় জামিন পেয়ে জেল থেকে ছাড়া পান তিনি।