আজকাল ওয়েবডেস্ক: পর্যটন শহর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে সোমবার ভক্তি, আচার ও ঐতিহ্যের আবহে পালিত হচ্ছে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব। তিথি ও প্রাচীন প্রথা মেনে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে সকাল থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।

মন্দিরের সামনে বাঁদিকে বিশেষভাবে নির্মিত স্নানবেদীতে মহাপ্রভূর মহাস্নানের ব্যবস্থা করা হয়। মোট ১০৮টি কলসে ডাবের জল, দুধ, সমুদ্রের জল, ঘৃত, মধু, চন্দন, তুলসী পাতা-সহ বিভিন্ন পবিত্র উপকরণ দিয়ে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান সম্পন্ন হয়। 
               
সকাল ৯টায় পাহাণ্ডি বিজয় (পাহাণ্ডি উৎসব)-এর মাধ্যমে গর্ভগৃহ থেকে শ্রীবিগ্রহকে স্নানবেদীতে নিয়ে আসা হয়। এরপর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাস্নান অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টায় গজবেশ (হাতি বেশ) দর্শনের আয়োজন করা হয়েছে, যা স্নানযাত্রার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

দিঘার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ, (২৯ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যা থেকে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার সরাসরি দর্শন বন্ধ থাকবে। স্নানযাত্রার পর প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভগবান অসুস্থ হয়ে 'অনসর' কক্ষে বিশ্রামে থাকবেন। এই সময় মন্দির খোলা থাকলেও ভক্তরা মূল বিগ্রহের দর্শন পাবেন না। তবে মন্দিরে প্রবেশ করে রাধা-মদনমোহন দর্শন করতে ও পুজো দিতে পারবেন।

দিঘা জগন্নাথ মন্দিরে স্নানযাত্রা উৎসবের এটি দ্বিতীয় বর্ষ। পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরের রীতি অনুসরণ করে তিথি মেনে এই উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। আগামী অনসর পর্ব শেষে নবযৌবন দর্শন এবং পরবর্তীতে রথযাত্রা উপলক্ষে আবারও ভক্তদের সামনে আবির্ভূত হবেন মহাপ্রভু।

স্নানবেদীর পুজোর দায়িত্বে থাকা পূজারী দামোদর আনন্দ দাস জানান, স্নানযাত্রার মাধ্যমে ভগবানের সর্বজনীন মঙ্গল কামনা করা হয়। শাস্ত্র অনুযায়ী ১০৮টি পবিত্র কলসের জলে মহাস্নানের পর ভগবান অনসর পর্বে বিশ্রাম নেন এবং এরপর নবযৌবন রূপে পুনরায় ভক্তদের দর্শন দেন।
          
উৎসব উপলক্ষে মন্দির চত্বরে আয়োজন রয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবকদের তৎপরতা এবং ভক্তদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা। ভক্তদের বিশ্বাস, স্নানযাত্রার এই পুণ্যক্ষণে মহাপ্রভুর আশীর্বাদ লাভ করলে জীবনে সুখ, শান্তি ও মঙ্গল নেমে আসে।