জগন্নাথের স্নানযাত্রা: কেন হাতি বেশ ধারণ করেন ভগবান? কীভাবে পালিত হয় উৎসব?
নিজস্ব সংবাদদাতা
২৯ জুন ২০২৬ ১০ : ৪৬
শেয়ার করুন
1
11
স্নানযাত্রা বা দেবস্নান পূর্ণিমা জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র এবং দেবী সুভদ্রার স্নান অনুষ্ঠান হয়। বিশ্বাস, এই শুভ দিনে দেবতাদের দর্শন করলে সমস্ত পাপ দূর হয়।
2
11
পুরাণ অনুযায়ী, রাজা ইন্দ্রদ্যুম্ন কাঠের তৈরি দেবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করে এই পবিত্র স্নান উৎসবের সূচনা করেছিলেন। ধীরে ধীরে এটি জগন্নাথ উপাসনার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠে।
3
11
স্নানযাত্রার সঙ্গে আরও একটি জনপ্রিয় কাহিনি জড়িত। এক গণেশ ভক্ত পণ্ডিত পুরীতে এসেছিলেন। তিনি নিজের ইষ্টদেবতা গণেশ ছাড়া অন্য কোনও দেবতার পূজা করতে রাজি ছিলেন না। তখন ভগবান জগন্নাথ বিশাল গণেশের রূপ ধারণ করে তাঁকে বিস্মিত করেন। এই ঘটনার পর থেকেই স্নানযাত্রায় দেবতাদের হাতি বেশ বা গজানন বেশে সাজানোর প্রথা শুরু হয় বলে বিশ্বাস করা হয়।
4
11
পাহান্ডি বিজয়: স্নানযাত্রার আগে জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রা এবং সুদর্শনকে মন্দিরের গর্ভগৃহ থেকে বিশেষ শোভাযাত্রার মাধ্যমে বের করে স্নান মণ্ডপে নিয়ে যাওয়া হয়। এই সময় ঢাক-ঢোল, মন্ত্রপাঠ ও ভক্তিগানের মাধ্যমে পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে।
5
11
পবিত্র জল আনা: উৎসবের দিন সকালে বিশেষ নিয়ম মেনে ১০৮টি কলসে জল আনা হয়। এই জল মন্দিরের সোনা কুয়া (সুনা কুয়া) থেকে সংগ্রহ করা হয়, যা বছরে একবার এই কাজের জন্য খোলা হয়।
6
11
জলাভিষেক: ১০৮টি কলসের জল দিয়ে জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রাকে স্নান করানো হয়। বৈদিক মন্ত্র, কীর্তন এবং শঙ্খধ্বনির মধ্যে এই পবিত্র অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
7
11
হাতি বেশ: সন্ধ্যায় স্নানের পর দেবতাদের হাতি বেশে সাজানো হয়। জগন্নাথ ও বলভদ্রকে হাতির রূপ দেওয়া হয় এবং সুভদ্রাকে পদ্ম সাজে সাজানো হয়।
8
11
অনসর কাল: স্নানের পর বিশ্বাস করা হয় যে দেবতারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাই ১৫ দিন তাঁদের সাধারণ দর্শন বন্ধ থাকে। এই সময়কে অনসর বলা হয়। এই সময়ে বিশেষ সেবকরা দেবতাদের সেবা করেন।
9
11
নেত্রোৎসব: ১৫ দিন পর দেবতারা আবার ভক্তদের দর্শন দেন। এই উৎসবকে নেত্রোৎসব বা চোখের উৎসব বলা হয়।
10
11
ভগবান জগন্নাথ হলেন এই উৎসবের প্রধান দেবতা। তাঁকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রূপ হিসেবে মানা হয়। জগন্নাথের বড় ভাই বলভদ্র শক্তি ও কৃষির প্রতীক। জগন্নাথ ও বলভদ্রের বোন সুভদ্রা শান্তি, মমতা ও সুরক্ষার প্রতীক। তাঁকে পদ্ম সাজে সাজানো হয়।
11
11
ভগবান বিষ্ণুর চক্রের প্রতীক সুদর্শনও এই উৎসবে অংশ নেন। তাঁকে অশুভ শক্তি দূরকারী হিসেবে পূজা করা হয়। স্নানযাত্রা শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি ভক্তি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিলন।