আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ের রাজনীতিতে ফের নতুন করে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিল বামপন্থীরা। দীর্ঘ বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে ভাঙড়ের চণ্ডীহাট-কাশীপুর এলাকার দলীয় শাখা অফিসটি নতুন করে খুলে দেওয়া হলো সিপিআইএম (CPIM) নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। ভাঙড়ের অন্যতম জনপ্রিয় প্রয়াত জনপ্রতিনিধি ও বাম আন্দোলনের পরিচিত মুখ বাদল জমাদারের স্মরণে এই কার্যালয়টির নতুন নামকরণ করা হয়েছে ‘বাদল জমাদার ভবন’। লাল কাপড়ে সেজে ওঠা এই দলীয় অফিসটি খোলার সময় স্থানীয় বাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
স্থানীয় সিপিআইএম নেতৃত্বের অভিযোগ, ২০১৬ সালে এক প্রকার জোর করে তাঁদের এই দলীয় কার্যালয়টি হাতছাড়া হয়েছিল। জারি করা হয়েছিল এক প্রকার অলিখিত নিষেধাজ্ঞা। সেই সময় অফিসটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়, এমনকি বোমা মেরে কার্যালয়টির মারাত্মক ক্ষতি করা হয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বামেদের কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি করা সম্ভব হয়নি। বাম নেতৃত্বের কথায়, পার্টি অফিস কেবল রাজনৈতিক কার্যালয় নয়, এটি আসলে এলাকার গরিব মানুষের আশ্রয়স্থল। অবশেষে সমস্ত বাধা বিপত্তি কাটিয়ে সেই অফিসটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে এবং নতুন করে রঙ করে, সাজিয়ে গুছিয়ে তা আবার সাধারণ মানুষের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।
পার্টি অফিস উদ্বোধনের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সিপিআইএম নেতারা বর্তমান রাজ্য ও কেন্দ্রের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। তাঁদের দাবি, রাজ্যে যারা ক্ষমতায় রয়েছে তারা দুর্নীতিগ্রস্ত এবং তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, কেন্দ্রের শাসকদলকে ‘ভয়ংকর সাম্প্রদায়িক শক্তি’ বলে তোপ দাগেন তাঁরা। বামেদের অভিযোগ, তৃণমূলের বহু নেতাকর্মী এখন বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন, ফলে আদতে এই দুই দলের নীতিতে কোনও তফাত নেই। মানুষের অধিকারের লড়াইয়ে বামপন্থীদের ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই বলে তাঁরা মনে করেন। সাম্প্রতিক সময়ে হকার উচ্ছেদ, লাগামহীন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি কিংবা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে বামপন্থীরাই রাস্তায় নেমে লড়াই করছে এবং সেই কারণেই সৃজন ভট্টাচার্য, সুজন চক্রবর্তী, জয়রাজ ভট্টাচার্য বা গার্গী চ্যাটার্জির মতো বাম নেতাদের বারবার আক্রান্ত হতে হচ্ছে বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন। ভাঙড়ের এই কার্যালয়টি পুনরায় চালু হওয়ার ফলে আগামী দিনে ওই এলাকায় বামেদের আন্দোলন আরও গতি পাবে বলেই রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
















