আজকাল ওয়েবডেস্ক: পরিবর্তন যাত্রায় যোগ দিয়েই কুরুচিকর মন্তব্য বিজেপি বিধায়ক অসীম সরকারের। বাংলার একাধিক প্রকল্প নিয়ে একের পর এক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করতে শোনা গেল তাঁকে। যা ঘিরে আবারও বিতর্ক তুঙ্গে। 

 

উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর বিধানসভার তেতুলিয়ায় পরিবর্তন যাত্রায় এসে হরিণঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা কবিয়াল অসীম সরকারের মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় তখন মঞ্চে বসে রয়েছেন‌। 

 

সেইসময় বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপি বিধায়ক বলেন, ১৫০০ টাকা করে যুবক, যুবতীরা পাচ্ছেন ভাতা আর জীবন ভরে ভাতার পাবে না, বিয়ে করতে পারবে না। তাই পরিবর্তন করা দরকার। রাজ্যের মহিলা যাঁরা লক্ষ্মীর ভান্ডার বা অন্যান্য উৎসাহ ভাতা পান, তাঁদের প্রতি এই মন্তব্য যথেষ্টই 'বিতর্কিত' বলে মনে করছেন রাজ্যের রাজনৈতিক মহল।

 

এবিষয়ে স্বরূপনগর দক্ষিণব্লকের যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি সঞ্জীব পাল বলেন, এটাই বিজেপির কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। বাংলার নারী সম্মানকে এইভাবে তাঁরা অপমান করেন। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ এর জবাব দেবেন।' 

 

পরিবর্তন যাত্রা ঘিরে গতকাল শোরগোল ছড়িয়েছিল বনগাঁয়। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর গাড়াপোতা এলাকায় বনগাঁ বাগদা সড়কে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা বাইক মিছিল করবে বলে জড়ো হয়েছিলেন৷ তাঁদের কাছে লিখিত কোনও অনুমতি না থাকায় পুলিশ মিছিল করতে বাধা দেয়। অভিযোগ, এর পরেই উত্তেজিত বিজেপি কর্মী সমর্থকরা প্রথমে বনগাঁ বাগদা সড়কের উপর বসে পড়েন৷ শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা৷ বিজেপির অভিযোগ, সেই সময় পুলিশ বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের লাঠি দিয়ে মারধর করে। যদিও পুলিশ সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিজেপি কর্মী সমর্থকদের ওপরেই পুলিশকে ধাক্কা দেওয়ার অভিযোগ আনে৷

 

জানা গিয়েছে, এদিন মিছিল শুরু হওয়ার আগে বনগাঁ থানার পুলিশের পক্ষ থেকে বিজেপি নেতা-কর্মীদের কাছে অনুমতিপত্র চাওয়া হয়৷ আর তা না থাকায় মিছিল বন্ধ করতে বলে পুলিশ৷ এরপরেই শুরু হয় অশান্তি। 

 

বিজেপি নেতা দেবদাস মণ্ডল বলেন, “সকালে বনগাঁ থানার মেদিয়াপাড়া এলাকা দিয়ে মিছিল শুরু হওয়ার সময় পুলিশ এসে বলে আপনাদের অনুমতি নেই। মিছিল বন্ধ করুন। কিন্তু আমাদের কখনই পুলিশ অনুমতি দেয় না৷ লিখিত আবেদন জমা দেওয়া আছে৷ আমরা মিছিল করেছি৷ কিন্তু বিকেলের গাড়াপোতার ঘটনায় প্রমানিত হল তৃণমূলকে খুশি করার জন্য আমাদের মিছিল আটকাচ্ছে।” 

 

যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিজেপি যে উশৃঙ্খল দল এটাই তা সবচেয়ে বড় প্রমাণ৷ ওরা আইন মানে না ওরা অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে না৷ এসআইআর তালিকা বেরনোর পর নির্বাচনে ভরাডুবি হবে বুঝতে পেরে ওরা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে৷