আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিয়ের সময় পনেরো হাজার টাকা দিতে পারেনি নববধূর পরিবার। তার জেরে বধূর উপর চলত অমানবিক অত্যাচার। যা সহ্য করতে না পেরে আত্মঘাতী হন গৃহবধূ। সেই মামলায় অভিযুক্ত স্বামী শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে দোষী সাব্যস্ত করল চুঁচুড়া আদালত।
আগামী সোমবার হবে সাজা ঘোষণা।

২০১৭ সালের ২রা মার্চ মগরার স্বর্ণময়ী মণ্ডলের সঙ্গে জিরাট কালিয়াগরের সঞ্জিত রাজবংশির বিয়ে হয়। বিয়ের সময় ৫০ হাজার টাকা দাবি করে পাত্রের পরিবার, এছাড়া অন্যান্য গহনা ও সামগ্রী। স্বর্ণময়ীর বাবা প্রশান্ত মণ্ডল সমস্ত জিনিস দিয়ে মেয়ের বিয়ে দেন। তবে, নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকার মধ্যে ৩৫ হাজার টাকা দিতে পেরেছিলেন, মাত্র ১৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়নি।

সেই ১৫ হাজার টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই নববধূর উপর চলত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, অভিযোগ মৃতার বাবা প্রশান্ত মণ্ডলের।
বেশ কয়েকবার বিষয়টি মেটানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি প্রশান্তের।

বিয়ের ন'মাস পরে ২০১৮ জানুয়ারি মাসের ১৬ জানুয়ারি শ্বশুরবাড়িতেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হন স্বর্ণময়ী। তাঁর পরিবার খবর পেয়ে জিরাটে যায়। বলাগড় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন প্রশান্ত মণ্ডল।

সেই মামলায় চুঁচুড়া আদালতের দ্বিতীয় অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক শুভ্রা ভৌমিক ভট্টাচার্য শুক্রবার, বধূ নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় বধূর স্বামী সঞ্জিত রাজবংশী, শ্বশুর কৃষ্ণচন্দ্র রাজবংশী ও শাশুড়ি ঝর্না রাজবংশীকে দোষী সাব্যস্ত করেন। আগামী ২৭ হবে সাজা ঘোষণা।

হুগলি জেলা মুখ্য সরকারি আইনজীবী শংকর গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, মোট আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয় এই মামলায়। ৪৯৮/এ. ৩০৪/বি ৩ ও ৪ ডিপি ধারায় মামলা রুজু হয়।

এই মামলায় বলাগড় থানার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন উজ্জল দে।