আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির অভিযোগ। আবারও এই অভিযোগ উঠেছে আইএসএফের বিরুদ্ধে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লার গাড়ি লক্ষ্য করে বোমাবাজির ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। 

 

দলের কর্মীদের অভিযোগ, ভাঙড়ের পোলেরহাট থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনাস্থল থেকে দু'টি তাজা বোমা এবং বোমার সুঁতুলি উদ্ধার করেছে পোলেরহাট থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 

 

তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর দাবি, দক্ষিণ গাজিপুরে তৃণমূল নেতা খাইরুল ইসলামের উপর হামলার ঘটনায় অভিযোগ জানিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তাঁর উপর এই হামলা চালানো হয়।

 

এই ঘটনায় আইএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন শওকত মোল্লা। যদিও এখনও পর্যন্ত আইএসএফের পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। 

 

প্রসঙ্গত, গত বছর নভেম্বরের শুরুতেও গভীর রাতে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ন’টা বাজার কিছুক্ষণ পরেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে কৃষ্ণমাটি এলাকায়।

 

জানা গিয়েছিল, সেই সময় ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক ও ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল পর্যবেক্ষক শওকত মোল্লা সভা শেষে বাড়ি ফিরছিলেন। তাঁর বাড়ি ফেরার পথে পরপর বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তে এলাকা কেঁপে ওঠে বিস্ফোরণের শব্দে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালতা বেরিয়া এলাকায় এদিন এক কর্মীসভা করে ফিরছিলেন শওকত মোল্লা।

 

সভা শেষে তিনি গাড়িতে উঠে ফিরছিলেন বাড়ির দিকে। ফেরার পথে কৃষ্ণমাটি এলাকায় আচমকাই পরপর বোমা ফাটানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শওকাত মোল্লার গাড়ি তখন সভাস্থল থেকে প্রায় পঞ্চাশ হাত দূরে ছিল, ঠিক সেই সময়ই বিস্ফোরণ ঘটে।

 

ঘটনার পরই কাশীপুর থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে এবং তল্লাশি শুরু করে। পুলিশ ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করে। পাশাপাশি এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়। এই বোমাবাজির ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছিল ভাঙড়ে। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, এই হামলার পেছনে রয়েছে আইএসএফ।

 

স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, ‘শান্তিপূর্ণভাবে সভা চলছিল। সভা শেষে বিধায়ক বেরোতেই ওরা বোমা ছুড়ে দেয়। এটা বিধায়ক শওকত মোল্লার উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল। সৌভাগ্যক্রমে বড় কিছু ঘটেনি।’

 

তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ‘আইএসএফ ক্রমশই জনসমর্থন হারাচ্ছে, তাই ভয় দেখানোর রাজনীতি শুরু করেছে। কৃষ্ণমাটি শান্তিপ্রিয় গ্রাম, এখানে এই ধরণের ঘটনা আগে ঘটেনি।’

 

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছিল আইএসএফ। তাদের পাল্টা দাবি, ‘তৃণমূলের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফলেই এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। ওরা নিজেরাই বোমা মেরে এখন দায় চাপাচ্ছে আমাদের উপর।’

 

বর্তমানে ভাঙড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশের উপস্থিতিতে এলাকা জুড়ে চাপে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আশ্বাস দিয়েছে।