মনিরুল হক

উদয়ন গুহের স্ত্রীকে খাবার পৌঁছে দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন বিজেপি নেতা দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। শুক্রবার দিনহাটা শহর সংলগ্ন সুভাষ ভবন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

দীপ্তিমানের অভিযোগ, উদয়ন গুহের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর খবর প্রকাশ্যে আসার পরই একদল ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে এসে বিক্ষোভ দেখায়। অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

পাশাপাশি, বাড়ির নিরাপত্তার জন্য লাগানো একাধিক সিসিটিভি ক্যামেরাও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে দিনহাটা জুড়ে।

সম্প্রতি আর্থিক তছরুপ ও প্রতারণা সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী উদয়ন গুহ। তাঁর গ্রেপ্তারির পর থেকেই দিনহাটার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

বিভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, প্রতিবাদ এবং প্রতিক্রিয়ার আবহে শুক্রবার কলকাতা থেকে দিনহাটার বাবুপাড়ার বাড়িতে ফেরেন উদয়ন গুহের স্ত্রী শাশ্বতী গুহ।

এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানবিকতার বার্তা দিতে চেয়েছিলেন বলে দাবি করেন দীপ্তিমান সেনগুপ্ত। তিনি নিজে উদয়ন গুহের পরিবারের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করে তাঁদের বাড়িতে পৌঁছে দেন।

দীর্ঘদিন ধরে ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শে অবস্থান করলেও একজন মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোকে নিজের নৈতিক দায়িত্ব বলে মনে করেছেন তিনি। উদয়ন গুহর বাড়িতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দীপ্তিমান বলেন, ‘রাজনীতির ঊর্ধ্বে মানবিকতা। রাজনৈতিক মতাদর্শ আলাদা হতে পারে, বিরোধিতা থাকতে পারে। কিন্তু কোনও পরিবার যেন অসুবিধার মধ্যে না থাকে বা কেউ যেন অভুক্ত না থাকেন, সেই মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমি খাবারের ব্যবস্থা করেছি। একজন মানুষের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ানোই আমাদের কর্তব্য।’

তারপরেই পরিস্থিতি অন্য দিকে মোড় নেয় বলে অভিযোগ। দীপ্তিমানের দাবি, উদয়ন গুহর বাড়িতে যাওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার কিছু সময়ের মধ্যেই তাঁর বাড়ির সামনে একদল ব্যক্তি জড়ো হয়।

অভিযোগ, তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোঁড়া হয় এবং শারীরিকভাবে হেনস্থা করারও চেষ্টা চলে। শুধু তাই নয়, বাড়িতে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরাগুলিও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু মানবিক উদ্যোগকে কেন্দ্র করে এই ধরনের আক্রমণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দীপ্তিমান জানিয়েছেন, তিনি পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের কথা ভাবছেন। প্রয়োজন হলে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং যারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

তবে এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে বিজেপি। দিনহাটার বিজেপি বিধায়ক অজয় রায় বলেন, ‘দীপ্তিমান সেনগুপ্ত নামে কাউকে আমি চিনি না। এই ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই।’

তাঁর দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিজেপির নাম জড়িয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ঘটনার পর দিনহাটার রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।

একদিকে উদয়ন গুহের গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা, অন্যদিকে তাঁর পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এক নেতার উপর হামলার অভিযোগ। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।