আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফেসবুক পোস্টে অপহরণের অভিযোগ। লাইভ লোকেশন ধরে বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধানকে উদ্ধার করল পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি থানার পুলিশ।
পূর্ব মেদিনীপুরের খেজুরি এক ব্লকের কামারদা অঞ্চলের বিজেপি পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিলা প্রধান ভবানী মণ্ডলের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে “আমাকে অপহরণ করা হয়েছে, আমাকে বাঁচান” লিখে লাইভ লোকেশন শেয়ার করার পরই পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। সেই লোকেশন ধরেই পুলিশ জাহানাবাদে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করে।
অভিযোগ, গত ১৫ জানুয়ারি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের কাজ সেরে কাঁথির ভাড়া বাড়িতে ফেরার পথে একটি ভ্যান দিয়ে তাঁর বাইক আটকে তাঁকে অপহরণ করা হয়। স্বামী সৌমেন মণ্ডল, শ্বশুর কেশব মণ্ডল সহ পরিবারের কয়েকজন তাঁকে জোর করে জাহানাবাদের শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে রাখেন। সেখানে পঞ্চায়েত থেকে টাকা রোজগারের দাবি এবং তা না হলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
ভবানী মণ্ডল অভিযোগ করেছেন, তিনি আদতে গৃহবধূ হিসেবেই থাকতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির চাপে পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। জয়ী হয়ে প্রধান হন। এরপর নির্বাচনের খরচ পঞ্চায়েত থেকে তোলার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে তিনি তা মানতে অস্বীকার করেন। বিষয়টি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েও কোনও সুরাহা না পেয়ে তিনি কাঁথিতে আলাদা ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন।
সুযোগ বুঝে স্বামীর মোবাইল থেকেই নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেন তিনি। সেই পোস্ট দেখেই পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ করে তাঁকে উদ্ধার করে। জেলা পুলিশ সুপার মিতুন কুমার দে জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং আরও দু'জন মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁদেরও কিছু অভিযোগ রয়েছে। সবটা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উঠে আসবে। এবং আইনি পদক্ষেপ করা হবে।
অন্যদিকে বিজেপির খেজুরি বিধায়ক শান্তনু প্রামানিক বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ পারিবারিক, দলের সঙ্গে এর কোনও যোগ নেই।” পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের খেজুরির প্রাক্তন বিধায়ক রঞ্জিত মণ্ডলের অভিযোগ, বিজেপির অন্দরের কোন্দলের জেরেই এই ঘটনা। তাঁর দাবি, গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান অনুপস্থিত থাকায় সাধারণ মানুষ পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। উন্নয়ন কার্যত স্তব্ধ।ঘটনা ঘিরে এলাকায় তীব্র রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
