আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি এখনও। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। রবিবার কোচবিহার থেকে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীন। সোমবার সেই কর্মসূচি শুরু হতে চলেছে রাজ্যের বিভিন্ন বিধানসভায়। বিজেপি সূত্রে খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, হাওড়া আমতায় কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালিতে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান, উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে সর্বভারতীয় বিজেপি সভাপতি নিতীন নবীন, বীরভূমের হাসনে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের হাত ধরে সূচনা হতে চলেছে এই কর্মসূচির। ১ এবং ২ মার্চ এই দুই দিনের উদ্বোধনে এত সংখ্যক হেভিওয়েট বিজেপি নেতা-মন্ত্রীকে একসঙ্গে দেখা যায়নি বাংলায়।

বিজেপি-র সূত্রে খবর, ১ মার্চ  ‘পরিবর্তন যাত্রা’ কর্মসূচির উদ্বোধন হয়েছে কোচবিহার, কৃষ্ণনগর, কুলটি, গড়বেতা এবং রায়দিঘিতে। ২ মার্চ হবে  ইসলামপুর, বীরভূম, সন্দেশখালি এবং আমতা। বিজেপির বর্তমান সভাপতি নিতিন নবীন উদ্বোধন পর্বের দু’দিনই রাজ্যে থাকছেন। ১ মার্চ কৃষ্ণনগরে প্রাক্তন সর্বভারতীয় সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা, গড়বেতায় ছিলেন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং কুলটিতে কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী অন্নপূর্ণা দেবী ও প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি ‘যাত্রা’র সূচনা করেন।

বিজেপির তরফে আগেই জানানো হয়েছিল কোন কোন কেন্দ্রীয় নেতা ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র উদ্বোধনে আসবেন। নামের তালিকায় ঈষৎ পরিবর্তন হয়েছে। নিতিন গড়কড়ীর নাম সরে গিয়ে এসেছে শিবরাজের নাম। 

রবিবার কোচবিহারে একটি গাড়িকে রথের আদলে সাজিয়ে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করা হয়। সেই রথে পতাকা দেখিয়ে যাত্রার সূচনা করেন নীতিন নবীন। ৫ মার্চ কোচবিহার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে এই রথ। সূচি অনুযায়ী, কোচবিহার দক্ষিণ, কোচবিহার উত্তর, মাথাভাঙ্গা ও শীতলকুচি বিধানসভা কেন্দ্র ঘুরে ৬ মার্চ তুফানগঞ্জ ও নাটাবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্র অতিক্রম করবে। কোচবিহারের মোট সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র পরিক্রমা শেষে রথটি আলিপুরদুয়ার জেলার পথে রওনা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে উত্তরবঙ্গ থেকেই প্রচারের ঝাঁঝ বাড়াতে চাইছে বিজেপি। ‘পরিবর্তন যাত্রা’কে ঘিরে কর্মীদের উৎসাহ যেমন চোখে পড়েছে, তেমনই শাসক-বিরোধী তরজাও আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে এই সভা থেকে।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের মাস আগে পশ্চিমবঙ্গে ‘যোগদান মেলা’র আয়োজন করেছিল বিজেপি। জেলায় জেলায় ‘মেলা’র আয়োজন করে অন্য দলের নেতাকর্মীদের শামিল করা হয়েছিল বিজেপিতে।