আজকাল ওয়েবডেস্ক: ঐতিহ্য মেনে আজও মুর্শিদাবাদ জেলার রঘুনাথগঞ্জ শহরে সমস্ত বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন গদাইপুরের পেটকাটি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন হওয়ার পরেই শুরু হয়। সেই মত রবিবার সকাল ১১ টা নাগাদ পেটকাটি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন হওয়ার পর শুরু হয়েছে বিভিন্ন বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন প্রক্রিয়া। 

 

 

প্রায় ৫০০ বছর আগে জঙ্গিপুর মহকুমার গদাইপুর গ্রামে এই দুর্গাপুজোর সূচনা হয়। স্থানীয় জনশ্রুতি রয়েছে, বহু বছর আগে অষ্টমীর দিন সন্ধিপুজোর আগে বাড়ির অন্য সদস্যরা যখন পুজোর জোগাড়ের কাজে ব্যস্ত ছিলেন সেই সময় মা দুর্গা একটি ছোট্ট মেয়েকে খেয়ে নিয়েছিলেন। এরপর দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে প্রতিমার পেট কেটে শিশুটিকে মায়ের গর্ভে মৃত অবস্থিত পাওয়া যায়। দেবীর পেট কেটে শিশুটিকে বার করার যে ঘটনা ঘটেছিল তার প্রতীক হিসেবে এখনও দেবীর পেট কেটে রাখা হয়। যদিও দুর্গা প্রতিমাকে শাড়ি পড়ানোর পর সেই কাটা অংশ সাধারণ মানুষের গোচরে আসে না। পুরনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি আটকাতে দেবীর পায়ে পড়ানো হয় শেকল। 

 

 

কমল মজুমদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান দশমীর মধ্যরাতে (শনিবার রাত বারোটা নাগাদ) পেটকাটি দুর্গা প্রতিমাকে নিরঞ্জনের জন্য মন্দির থেকে বার করা হয়। এরপর বেহারা এবং গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপিয়ে প্রতিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় আখরি নদীতে। সেখানে নৌকাতে চাপিয়ে প্রতিমাকে নিয়ে যাওয়া হয় ভাগীরথী নদীতে নিরঞ্জনের জন্য। প্রতিমা মন্ডপ থেকে বের হয়ে নিরঞ্জন হতে ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে।" 

 

 

রাজা হালদার নামে স্থানীয় অপর এক বাসিন্দা জানান, "রঘুনাথগঞ্জ শহরের দীর্ঘদিনের রীতি পেটকাটি দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জন হওয়ার পরেই এলাকার সমস্ত বারোয়ারি পুজোর প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। পেটকাটি দুর্গা প্রতিমা গদাইপুরের মন্দির থেকে বার হওয়ার পর এলাকাবাসীরা কয়েকশো নৌকা নিয়ে প্রতিমাকে নদীতে অনুসরণ করতে থাকে। কানুপুর, খিদিরপুর, বালিঘাট ,সদরঘাট সহ বিভিন্ন ঘাটের সামনে গিয়ে প্রতিমা নিয়ে নৌকা দাঁড়িয়ে থাকে এবং মা দুর্গাকে প্রণাম জানানোর জন্য এবং তাঁর আশীর্বাদ নেওয়ার জন্য ঘাটের দুই ধারে অসংখ্য মানুষ জড়ো হয়ে থাকেন।" 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন পেটকাটি দুর্গা প্রতিমার কাছে মানুষ কিছু কামনা করলে তা পূরণ হয়। তাই দেবীর আশীর্বাদ পাওয়ার পর অনেকেই প্রতিমা নিরঞ্জন হওয়ার সময় তাঁর উদ্দেশ্যে ভাগীরথী নদীতে বাতাসা, ফল ইত্যাদি ছুঁড়ে দেন। 

 

 

এরপর প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় রঘুনাথগঞ্জের শ্মশান ঘাট এলাকায়। সেখানে বেশ কিছুক্ষণ নদী পরিক্রমার পর দেবীকে ভাগীরথী নদীর জলে নিরঞ্জন করা হয়।