মিল্টন সেন

 

বিধানসভা ভোটে ব্যাপক বিপর্যয়। অভিযোগ, ফলে সমস্যা দেখা দিয়েছিল বোর্ড পরিচালনার ক্ষেত্রে। সে কারণে হুগলি জেলায় এই প্রথম পুরসভায় পদত্যাগের ঘটনা ঘটল।

বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার চেয়ারম্যান সহ আট জন কাউন্সিলর একসঙ্গে পদত্যাগ করলেন। চন্দননগর বিধানসভার অন্তর্গত ভদ্রেশ্বর পুরসভায় ওয়ার্ডের সংখ্যা ২২ টি।

গত পুরসভা নির্বাচনের ফলাফলের নিরিখে একেবারেই বিরোধীশূন্য ছিল এই পুরসভা। তবুও ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে দেখা গেছে পুরসভার ১৪টি ওয়ার্ডেই হেরে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

পরাজিত হয়েছেন চন্দননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন। তিনি পরাজিত হয়েছেন ১৩ হাজারেরও বেশি ভোটে। চন্দননগর পুর নিগমের পাশাপাশি ভদ্রেশ্বরেও পরাজিত হয়েছেন তিনি।

তাই দলের বিপর্যয়ে নৈতিক দায় স্বীকার করে বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বর পুরসভার এক্সিকিউটিভ অফিসারের কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দেন তৃণমূল কাউন্সিলরা। পদত্যাগ করেছেন ভদ্রেশ্বর পুরসভার তৃণমূল চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তীও।

যদিও এই পুরসভার আট জন তৃণমূল কংগ্রেস কাউন্সিলর পদত্যাগ করলেও বোর্ড থাকবে। পুর বোর্ড চালাতে অসুবিধা হবে না। জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ খানের নেতৃত্বে পুরসভা চালানো হবে।

পদত্যাগ প্রসঙ্গে চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ বলেছেন, ‘নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে পদত্যাগ করেছেন। এটা ভাল বিষয়। অনেক দিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল ভদ্রেশ্বর পুর এলাকায় মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন না। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে। ওখানে তৃণমূল কংগ্রেসের হার অনিবার্য ছিল, এটা তো ভোটের আগেই তারা জানতেন। তাহলে ফলাফল বেরোনোর এত দিন পরে বোধোদয় হয়েছে। তবে এর পিছনে অন্য কারণ থাকতে পারে। বিষয়টা খতিয়ে দেখা হবে।’

ছবি: পার্থ রাহা