আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুলিশের জালে ফলতার ত্রাস তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জাহাঙ্গীর ওরফে 'পুস্পা'। নেপাল সীমান্ত থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ। যে বিষয়ে বলতে গিয়ে রাজ্য বিজেপির সমালোচনা করেছেন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। মঙ্গলবার দলীয় কার্যালয় বিধান ভবনে বসে জাহাঙ্গীর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এক জাহাঙ্গীর গ্রেপ্তার হয়েছে আরও জাহাঙ্গীর তৈরি হয়েছে। এরপরেই শুভঙ্কর বলেন, "জাহাঙ্গীরকে গ্রেপ্তার কিন্তু রাকেশ সিংকে টিকিট দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে পুলিশি নিরাপত্তা।" 

প্রসঙ্গত, এর আগে রাজ্য কংগ্রেস অফিসে একটি ভাঙচুর ও গোলমালের ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন রাজ্য বিজেপির অন্যতম নেতা রাকেশ সিং। অভিযোগ, তাঁর নেতৃত্বে একদল বিজেপি সমর্থক প্রদেশ কংগ্রেসের অফিসে ঢুকে ভাঙচুরের পাশাপাশি রাহুল গান্ধীর ছবিতে কালি লাগিয়ে দেন। অফিসে ঢোকার মুখে কংগ্রেস নেতাদের ছবি ছিঁড়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনার পর বিজেপির বক্তব্য জানতে চেয়ে সরাসরি বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যকে চিঠি দেন রাজ‌্য কংগ্রেস সভাপতি। পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার পাঁচ দিন পর রাকেশ গ্রেপ্তার হয়। পরবর্তী সময়ে রাকেশকে বিজেপি কলকাতা বন্দর এলাকা থেকে প্রার্থী করে। যদিও ভোটে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের কাছে হেরে যান রাকেশ। 

শুভঙ্কর সরকারের তোলা এই অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, "জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কি রাকেশ সিংয়ের তুলনা হয় নাকি! সমাজবিরোধী কাজের জন্য ইতিমধ্যেই জাহাঙ্গীর পরিচিত। তা ছাড়া রাকেশ তো আগে কংগ্রেস করতেন। কংগ্রেসের রাজ্য সম্পাদক ছিলেন। বিজেপিতে বেশিদিন আসেননি। তাঁর বিরুদ্ধে কে অভিযোগ করছেন? কংগ্রেসের রাজ্য সভাপতি। বিষয়টি একেবারেই হাস্যকর।" 

এদিন ১৫০ জনেরও বেশি সংখ্যক সাধারণ মানুষ ও অন্য দলের কর্মী বিধান ভবনে এসে কংগ্রেসে যোগদান করেন। যাদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি। পাশাপাশি তিনি ঘোষণা করেন বুধবার লোকভবনের সামনে হকার উচ্ছেদ, বেআইনি নির্মাণ ভাঙার নামে গরীব মানুষের বাড়ি ভাঙা-সহ আরও বেশ কিছু বিষয় নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হবে।