আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের আগে উপহার উত্তরবঙ্গকে। শুক্রবার শিলান্যাসের উদ্দেশ্যে কলকাতা থেকে উত্তরবঙ্গের পথে রওনা দেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। শিলিগুড়ির মাটিগাড়ায় বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শিব মন্দির 'মহাকাল মহাতীর্থ'-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে, শুক্রবার সকালে মুখ্যমন্ত্রী নিজের লেখা ও সুর করা এবং ইন্দ্রনীল সেনের গাওয়া একটি গান সমাজমাধ্যমের পাতায় শেয়ার করে নেন। 

এদিন যাওয়ার আগে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'জমি ইতিমধ্যেই অধিগ্রহণ হয়ে গিয়েছে। ট্রাস্টও তৈরি হয়ে গিয়েছে, আমি যদি শিলান্যাস না করতি, কাজ শুরু হবে না। তাই আমি আজ শিলান্যাস করব। তারপরেই কাজ শুরু হয়ে যাবে।' 

তবে, এদিনেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, যেখানেই যান না কেন, বারে বারে তিনি সরব হবেন রাজ্যের মানুষের উপর হামলার বিরুদ্ধে। মনে করিয়ে দিলেন, 'আই অ্যাম ডেডিকেটেড অফ দ্য পিপল বাই দ্য পিপল ফর দ্য পিপল।'

এদিন কলকাতা ছাড়ার আগে, ফের পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর ভিন রাজ্যে ক্রমাগত ঘটে চলা হেনস্থা-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, 'বিহারে কালকে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর অত্যাচার হচ্ছে, আক্রমণ হচ্ছে। ডবল ইঞ্জিন সরকার, যেখানে বিজেপি সরকার আছে, তারাই এখানে মানুষের নাম কাটছে আবার আমাদের লোকেদের পিটিয়ে হত্যা করছে। এর থেকে নক্কার জনক কিছু হতে পারে না।' 

 

কমিশনকেও একহাত নেন এদিন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়ে দেয়, সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড বৈধ নথির তালিকায় পড়ছে না। অর্থাৎ, ভারতের নাগরিক হওয়ার বৈধ নথি হিসেবে দেখানো যাবে না মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড। মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, তার বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডই আমরা জন্ম সংশাপত্র হিসেবে গ্রহণ করি। আগে তো ইন্সটিটিউশন ডেলিভারি ছিল না। আজ যদি হঠাৎ বলে নতুন করে চ্যাপ্টার খোল, এটা গ্রহণ হবে না,  সুপ্রিম কোর্ট বলার পরেও বলছে আধার কার্ড গ্রহণ হবে না। মালদহে একটি কমিউনিটির ৯০ হাজার মানুষকে নোটিস পাঠিয়েছে, অনেক জেলায় আদিবাসীদের সব নাম কেটে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে।' মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, এক্স ফরেন সেক্রেটারি, অমর্ত্য সেন, লক্ষ্মী রতন শুল্কা, দেব, জয় গোস্বামীর নাম। প্রশ্ন করেন, 'কাকে বাদ দিয়েছে বলুনতো? সাধারণ মানুষ যাবেন কোথায়? ভোট কি করবে ইলেকশন  কমিশন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আর বিজেপি পার্টি। তাহলে তো ১ শতাংশ ভোটার থাকবে না।' 

তিনি বলেন, 'মানুষের সঙ্গে ছিলাম, আছি, থাকব। মানুষের জন্য লড়াই জারি থাকবে। গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য, অন্যায়ের বিরুদ্ধে, অত্যাচারের বিরুদ্ধে, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, অটোক্রেসির বিরুদ্ধে।  গণতন্ত্র রক্ষা করতে লড়াই চলছে চলবে। আরও জোরদার হবে।

বেলডাঙা ইস্যুতে এদিন তিনি মন্তব্য করেন। সংখ্যালঘু সেন্টিমেন্ট মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। 'সংখ্যালঘুদের ক্ষোভ স্বাভাবিক। আমিও এর জন্য ক্ষুব্ধ। তাদের একতরফা বাদ দিতে পারে না। আদিবাসীদের, মতুয়াদের, রাজবংশীদের দিয়েছে। প্রতিদিন নিয়ম বদল নিয়েও ক্ষোভ।' বলেন, 'বুঝতে হবে কী সাংঘাতিক পরিস্থিতি। ইচ্ছা করে বাংলায় দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করছে। বিজেপির পরিকল্পনা এটা। ভোটে না পেরে ঘোট পাকাচ্ছে। করছে লুঠ বলছে ঝুট। সংখ্যালঘুদের বলব, পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর যে অত্যাচার হচ্ছে, আমরা বিষয়টি দেখছি।  আমরা মামলা করেছি, পরিবারগুলিকে সাহায্য করছি। আপনারা শান্ত থাকুন, ধৈর্য ধরুন। যাঁদের ডাকা হবে, তাঁরা ফর্ম জমা দিন। বাকি মামলা চলছে আদালতে। আদালতের উপর ভরসা রাখুন।'