আজকাল ওয়েবডেস্ক: বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। সকাল থেকে চলছে ভোটগ্রহণ। ১২ ফেব্রুয়ারির এই ভোটকে ঘিরে চূড়ান্ত নিরাপত্তা বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়েছে সে দেশকে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আবহে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনের দিকে নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলেরও। পরিস্থিতি বিবেচনায় বাড়তি সতর্কতা নিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার সীমান্ত সিল করা হয়েছে। ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত জুড়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সীমান্তবর্তী একাধিক এলাকায় বিএসএফের টহলদারি জোরদার করা হয়েছে। নিয়মিত পেট্রোলিংয়ের পাশাপাশি কড়া ম্যানুয়াল মনিটরিং চলছে। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। ড্রোন, সিসিটিভি ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক সার্ভেলেন্স ব্যবস্থার মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা সীমান্ত পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। সংবেদনশীল পয়েন্টগুলিতে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে ১০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের সমস্ত নিরাপত্তা সংস্থাকে হাই অ্যালার্টে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলির প্রশাসনকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনওরকম অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।
কেন্দ্রীয় সূত্রের দাবি, বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নজর রয়েছে ভারত সরকারের। প্রতিবেশী দেশের পরিস্থিতির প্রভাব যাতে ভারতের ভেতরে না পড়ে, সে বিষয়টি মাথায় রেখেই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবারের ভোটকে কেন্দ্র করে সীমান্তে বাড়তি নজরদারি ও কড়া নিরাপত্তার আবহ বজায় রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ৩০০ আসনের বাংলাদেশে সংসদে ২৯৯ টি আসনে ভোট হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে, বুধবার থেকেই বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত, পেট্রাপোলে বন্ধ রয়েছে বাণিজ্য। অন্যদিকে সীমান্ত সংলগ্ন বসিরহাট পুলিশের তরফে জেলাজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে বাদুড়িয়া থানার লবঙ্গ এলাকা, ন্যাজাট থানার কানমারী, হাসনাবাদ থানার বনবিবি সেতু সংলগ্ন এলাকা ছাড়াও হিঙ্গলগঞ্জ, সন্দেশখালির হেমনগর কোস্টাল ও বসিরহাট থানা–সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলছে পুলিশের তল্লাশি।
বিশেষ করে শহরে ঢোকা ও বেরনোর সমস্ত রাস্তাতেই বুধবার রাত থেকেই গাড়ি এবং মোটরবাইক থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সীমান্তমুখী রাস্তাগুলিতেও কড়া নজরদারি রাখা হয়েছে। সন্দেহজনক কিছু মনে হলেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বিশেষ করে নদী ও স্থল দুই ধরনের সীমান্ত পথেই নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যাতে বেআইনি অনুপ্রবেশ, অস্ত্র বা নিষিদ্ধ সামগ্রীর পাচার এবং দুষ্কৃতীদের চলাচল আগেভাগেই রুখে দেওয়া সম্ভব হয়। শুধু তাই নয়, রাতের অন্ধকারে কেউ যাতে অনুপ্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বাড়তি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
