আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোনও পাহাড়ি শহরে বা নদীর ধারে পরিবারের ঘনিষ্ঠ মানুষদের সাক্ষী রেখে বিয়ে করার ইচ্ছে অনেকেরই থাকে। কিন্তু ডেস্টিনেশন ওয়েডিং সাধ্যে কুলোয় না। খরচ অনেক। চিন্তা করতে হবে না আর। এবার থেকে সরকারি রিসর্টেই হবে ডেস্টিনেশন ওয়েডিং। স্বপ্নপূরণে উদ্যোগী পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর।

জানা গিয়েছে, সরকারি পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেই বসবে বিয়ের আসর। রাজ্য পর্যটন দপ্তর নির্বাচিত কিছু পর্যটন কেন্দ্রে ডেস্টিনেশন ওয়েডিংয়ের পরিকাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দপ্তরের নোডাল সংস্থা ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যুরিজম ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড’-এর হাতে থাকা প্রায় ৪০টি এমন রিসর্টের ভোল বদলে ফেলার সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ 

বুধবার একটি পর্যটন সম্মেলনে রাজ্যের পর্যটন দফতরের অতিরিক্ত প্রধান সচিব বরুণ রায় এই বিষয়ে জানান। তিনি আরও জানিয়েছেন, পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে বিয়ের আসর বসাতে গেলে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে আধুনিক ব্যাঙ্কোয়েট হল, নবদম্পতির জন্য বিশেষ হানিমুন স্যুট এবং বিলাসবহুল ঘরের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে আগামী শীতের মধ্যে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হয়ে যাবে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াংয়ের মতো পাহাড়ি এলাকা থেকে শুরু করে দিঘার সমুদ্রতটে এই বিয়ের আসর বসানোর বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। খরচ যাতে তা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকে, এমনভাবে নির্ধারণ করা হবে। 

বুধবার কলকাতার পার্ক হোটেলে ‘শেপিং দ্য ফিউচার অফ ট্যুরিজম ইন ওয়েস্ট বেঙ্গল’ শীর্ষক বিশেষ সম্মেলনের সূচনা করেন পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন মন্ত্রকের স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা এবং পর্যটন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বরুণকুমার রায়। মূলত রাজ্যের পর্যটন শিল্পের অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা ও তার দ্রুত বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করতেই এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সম্মেলনে সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি শিল্প নেতৃবৃন্দ, বিনিয়োগকারী, হোটেল ব্যবসায়ী, ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটন বিশেষজ্ঞরাও ছিলেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য, বাংলার প্রাকৃতিক সম্পদ- পাহাড়, জঙ্গল এবং গঙ্গাকে কেন্দ্র করে উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো। সেখানেই এই ঘোষণা করেন পর্যটন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব।