আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ফের সক্রিয় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ চক্র। এবার এই প্রতারণা চক্রের নিশানায় খোদ ব্যারাকপুর পৌরসভার পৌরপ্রধান উত্তম দাস। কলকাতা সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ আধিকারিক পরিচয় দিয়ে তাঁকে ফোন করে হুমকি ও ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। তবে নিজের উপস্থিত বুদ্ধির জোরে বড়সড় বিপদ থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি।ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে উত্তম দাস জানান, বৃহস্পতিবার সকালে তাঁর কাছে একটি ফোন আসে। ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে জনৈক ব্যক্তি নিজেকে কলকাতা সাইবার ক্রাইম দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দেয়। ওই ব্যক্তি দাবি করেন, উত্তম দাসের নামে নথিভুক্ত একটি সিম কার্ড ব্যবহার করে বড়সড় কোনো অপরাধ সংগঠিত হয়েছে।
এই অপরাধের প্রেক্ষিতে মুম্বাই সাইবার ক্রাইম বিভাগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে অবিলম্বে মুম্বাইয়ে হাজিরা দিতে হবে। এরপরই ওই ব্যক্তি জানায়, সরাসরি ফোনের বদলে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলের মাধ্যমে তাঁকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ দেওয়া হবে। অপরপ্রান্তের 'পুলিশের' এই তৎপরতা ও এই ধরনের কথাবার্তায় অসংগতি লক্ষ্য করে উত্তমবাবুর মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। তিনি বুঝতে পারেন এটি একটি 'ফেক কল' বা ডিজিটাল জালিয়াতির ফাঁদ। সময়ের অপচয় না করে তিনি তৎক্ষণাৎ ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরো বিষয়টি সবিস্তারে জানান। সূত্র অনুযায়ী জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের পক্ষ থেকে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়, ডিজিটাল অ্যারেস্ট-এর নামে এটা ছিল একটা ফেক কল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় টিটাগড় থানার পুলিশের কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যারাকপুর পৌরপ্রধান।
দেশজুড়ে এই ডিজিটাল অ্যারেস্ট-এর ফাঁদে পড়ে বহু লোক সর্বস্বান্ত হয়েছেন। ব্যাঙ্কের জমানো টাকা গচ্চাও গিয়েছে তাঁদের। পুলিশের পক্ষ থেকেও বারবার সতর্ক করে বলা হয়েছে ডিজিটাল অ্যারেস্ট বলে কিছু হয় না। কোনো পুলিশ বা সরকারি আধিকারিক ভিডিও কলের মাধ্যমে কাউকে ‘অ্যারেস্ট’ বা ‘ডিজিটাল নজরদারি’তে রাখার কথা বলতে পারেন না। এই ধরনের ফোন এলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
