আজকাল ওয়েবডেস্ক: নাগরিকত্ব আবেদনের জন্য এবার সিএএ শিবির খুলে বসলেন উত্তর ২৪ পরগণার এক বিজেপি নেতা। এই জেলার বাগদা ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতিতে বিরোধী দলনেতা সৌরভ গোয়ালি বাগদার চোয়াটিয়া বাজারে নিজের অফিসে নাগরিকত্ব আবেদনের বিশেষ এক সিএএ শিবিরের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি অনলাইনে আবেদনের ব্যবস্থা করেন। এই শিবিরে উপস্থিত হয়ে নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে দেখা যায় অনেককেই।
আবেদনকারীরা তাঁদের সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন ভারত ও বাংলাদেশে তাঁদের বসবাসের নথিপত্র। ছিল এদেশে তাঁদের ভোটার আইকার্ড-সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র। এই বিষয়ে যুধিষ্ঠির মণ্ডল জানান, তিনি ১৯৯৩ সালে ভারতে এসেছিলেন। বাংলাদেশের প্রমাণপত্র এবং ভারতে বসবাসের তাঁদের অন্যান্য নথিপত্র নিয়ে তিনি আজ এই সিএএ শিবিরে অনলাইনে আবেদন করেছেন।
লাইনে উপস্থিত আরেক আবেদনকারী অমলানন্দ ব্রক্ষচারী জানিয়েছেন, তিনিও সিএএ শিবিরে এসেছেন নাগরিকত্বের আবেদনের জন্য। তাঁর কথায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবেদন করতে বলেছেন সেজন্য তিনি আবেদন করছেন। এবিষয়ে বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী দলনেতা সৌরভ বলেন, 'আমরা বিশেষ শিবির খুলে সাধারণ মানুষকে সিএএ'র জন্য আবেদন করার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এই বিষয়টি আইনে রূপান্তরিত হয়েছে। সে কারণেই সাধারণ মানুষ আবেদন করছেন এবং আমরা তাঁদের সহযোগিতা করছি। এদিন ৪০ থেকে ৫০ জন এই শিবিরে আবেদন করেছেন বলে তিনি দাবি করেছেন।
বিষয়টি নিয়ে বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি নিউটন বালা বলেন, প্রায় এক বছর ধরে সিএএ লাগু হয়েছে। জনগণের কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। মানুষ বলছেন তাঁরা নি:শ্বর্ত নাগরিকত্ব চান। শর্তসাপেক্ষে কিছু নয়। কিছু কিছু বিজেপি নেতা ছোট ছোট শিবির খুলে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে ভাঁওতা দিছেন। মানুষ মমতা ব্যানার্জির পাশেই আছেন এবং আগামীদিনেও থাকবেন। বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি বাংলা বিদ্বেষী আর এখানে বিজেপি নেতারা সিএএ'র জন্য আবেদন করাচ্ছেন। এটা একটা হাস্যকৌতুক।
বিষয়টি সার্কাস বলে কটাক্ষ করে এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস। সেখানে সাংসদ ও কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের হাতে শান্তনু 'আইডেন্টিটি কার্ড' তুলে দিয়েছিলেন। আবার পুণেতে মতুয়াদেরই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিজেপির প্রতিমন্ত্রীর সাক্ষর করা কার্ডকে আমল দেননি মহারাষ্ট্র পুলিশের ডিজিপি।
First, @Shantanu_bjp handed out “identity cards” to members of the Matua community. When Matua individuals were illegally arrested in Pune as “Bangladeshi immigrants,” @DGPMaharashtra refused to honour cards signed by this Union MoS from @BJP4India.
— All India Trinamool Congress (@AITCofficial)
Now, BJP’s circus continues.… pic.twitter.com/lA3A0uWSszTweet by @AITCofficial
এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে তৃণমূলের তরফে লেখা হয়, 'প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্যদের হাতে ‘পরিচয় পত্র’ তুলে দিচ্ছিলেন। সেই পরিচয়পত্র নিয়ে যখন পুণেতে কয়েকজন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ বলে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন মহারাষ্ট্রের ডিজিপি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, শান্তনু ঠাকুর স্বাক্ষরিত কার্ড তাঁদের কাছে বৈধ নয়। তারপরেও বিজেপি ‘সার্কাস’ চালিয়ে যাচ্ছে। বাগদায়, বিজেপির এক তুচ্ছ পঞ্চায়েত সমিতির বিরোধী নেতা একটি তথাকথিত সিএএ ক্যাম্প চালাচ্ছেন। প্রশ্ন উঠছে—এই লোকটির কী ক্ষমতা আছে সিএএ প্রক্রিয়া চালানোর? সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বা সিএএ বাস্তবায়নের সম্পূর্ণ দায়িত্ব কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের, যার নেতৃত্বে রয়েছেন অমিত শাহ। নাগরিকত্ব দেওয়ার আবেদনপত্র গ্রহণ, যাচাই ও মঞ্জুর করা সবকিছুই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আওতাধীন। তাহলে স্থানীয় বিজেপি নেতার কী অধিকার আছে সিএএ ক্যাম্প করার? মতুয়া ভাই-বোনেদের প্রতি আমাদের আবেদন এই ধরণের ফাঁদে একদম পা দেবেন না। এটা বিজেপির পুরনো কৌশল, ভোটের আগে সিএএ-এর মিথ্যে আশ্বাস, আর ভোট মিটলেই সব চুপ'।
