আজকাল ওয়েবডেস্ক: ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের বিজেপি সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, পূর্বতন সরকারের আমলে চালু থাকা কোনও সামাজিক প্রকল্প বন্ধ হবে না।

ইতিমধ্যেই, একাধিক প্রকল্প নতুন করে নাম দিয়ে চালু করা হয়েছে। রাজ্য বাজেটে সমস্ত প্রকল্প চলতি বছরেই চালু করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। এবার এই সামাজিক প্রকল্পগুলির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এক নয়া পরিসংখ্যান প্রকাশ্যে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তাঁর দাবি, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে মিললে কোনও প্রান্তিক পরিবারের মাসিক আয় ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।

এমনই হিসাব তুলে ধরে রাজ্যের সাধারণ মানুষের সামনে নতুন এক দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুবিধা যদি একটি যোগ্য পরিবার একসঙ্গে পায়, তাহলে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা তাদের হাতে পৌঁছাতে পারে।

শুধু নগদ আর্থিক অনুদান নয়, বিনামূল্যে রেশন, স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সুবিধাও সেই পরিবারের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ভিন্ন রাজ্যের কাজের খোঁজে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের বাংলায় ফিরিয়ে এনে এখানেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওপরও জোর দেন তিনি। জানান, জেলা প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

মুখ্যমন্ত্রী জানান, বিকশিত ভারত কর্মসূচির আওতায় ১২৫ দিনের কাজ, আয়ুষ্মান ভারত যোজনার আওতায় ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি নির্মাণ শ্রমিক, বিড়ি শ্রমিক সহ বিভিন্ন অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের শ্রম দপ্তরের একাধিক প্রকল্প চালু রয়েছে। এই সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা আমজনতার কাছে পৌঁছে দিতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার বার্তা দিয়েছেন শুভেন্দু। 

কেন্দ্র এবং রাজ্যের সমস্ত প্রকল্পের সুবিধা মিললে একটি প্রান্তিক পরিবারের সম্ভাব্য মাসিক আয়ের হিসাব তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রশাসনের তরফ থেকে হিসাব করে দেখা গেছে একটি যোগ্য পরিবার যদি পিএম কিষাণ, সম্মান নিধি, অন্নপূর্ণা যোজনা, বার্ধক্য ভাতা, ১২৫ দিনের কাজের মতো বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে পায়, তাহলে প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা পেতে পারে।

এরই পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনার মাধ্যমে বিনামূল্যে রেশন এবং আয়ুষ্মান ভারতের অধীনে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবার সুবিধাও পাওয়া যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসনকে বলছি, পরিযায়ী শ্রমিকদেরকে ফিরিয়ে আনুন। ১০০ দিনের কাজ এবং অন্যান্য যে সোশ্যাল বেনিফিটগুলো রয়েছে, তার সঙ্গে আয়ুষ্মান ভারতের ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসা। এর সঙ্গে নির্মাণকর্মী থেকে শুরু করে বিড়ি শ্রমিকদের জন্য ভারত সরকার, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের লেবার ডিপার্টমেন্টের যে প্রজেক্ট, সব মিলিয়ে আমরা হিসাব করে দেখেছি একটা পরিবার ১৫০০০ টাকা আয় করতে পারে মাসে বিভিন্ন স্কিম থেকে। পিএম কিষাণ সম্মান নিধি বলুন, কৃষক বন্ধু বলুন, অন্নপূর্ণা যোজনা বলুন, বার্ধক্য ভাতাও ৫০০ বাড়ানো হচ্ছে। ১২৫ দিনের কাজের ক্ষেত্রে আনস্কিল ৩০০, সেমিস্কিল ৪৫০, হাইস্কিল ৬০০। সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রী অন্ন সুরক্ষা যোজনার রেশন।’