আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রকাশিত হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। নির্দিষ্ট পোর্টালে তিনটি ভাযায় উপলব্ধ রয়েছে সেই ফর্ম। আপাতত ডাউনলোড করা যাচ্ছে। অনলাইনে আবেদন কীভাবে হবে সেই বিষয়ে এখনও বিস্তারতি জানানো হয়নি। পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু অনলাইনে আবেদন করলেই আবেদনকারীর নাম যে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় চলে আসবে সেটা ভেবে নিশ্চিন্ত হওয়ার কিছু নেই। অনলাইনে আবেদন করলেও সেই আবেদনপত্র সশরীরে যাচাই করবে সরকারি আধিকারিকরা এমনটাই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে। এই সংক্রান্ত নির্দেশিকাও জারি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের সব জেলার জেলাশাসকদের উদ্দেশ্য করে বুধবার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে মহিলা ও শিশুকল্যাণ দপ্তর। অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহের নির্দেশিকার রয়েছে সেটিতে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে। আবেদনকারীরা ফর্মটির ভৌত কপি সংগ্রহ করতে পারেন। ফর্মে সকল সদস্যের জন্য পারিবারিক পর্যায়ের তথ্যপ্রদানের জায়গা রয়েছে। যেখানে ‘পরিবার’ বলতে এমন একদল ব্যক্তিকে বোঝানো হয়েছে যারা সাধারণত একসঙ্গে বসবাস করে এবং একটিই রান্নাঘর থেকে খাবার গ্রহণ করেন।
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় বিডিও, শহরাঞ্চলে এসডিও এবং কলকাতায় কলকাতা পুরসভার আধিকারিকরা আবেদনপত্র বিতরণ ও আবেদনকারীদের ফর্ম পূরণে সাহায্য করার জন্য সরকারি কর্মী নিযুক্ত করবেন। ওই কর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে জেলাশাসক এবং পুরসভা কমিশনারকে। কোনও সুবিধাভোগী অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য পারিবারিক স্তরের তথ্য সংগ্রহ ফর্ম জমা দেওয়ার পর, এসডিও, বিডিও বা কেএমসি আধিকারিক তা যথাযথভাবে ডিজিটাইজ করতে পারেন।

অন্নপূর্ণা যোজনার অনলাইন ফর্ম পূরণের জন্য একটি পোর্টাল তৈরি করা হচ্ছে। অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনপত্রগুলি সরকারি কর্মীরা সশরীরে যাচাই করবেন এবং তারপরে এসডিও, বিডিও, কেএমসি আধিকারিকরা অনলাইনে যাচাই করবেন। আবেদনপত্রগুলি প্রথমে সরকারি কর্মীরা সশরীরে যাচাই করবেন। তারপরে ফের পোর্টালে যাচাই করা হবে। যোগ্য আবেদনকারীর অনলাইন অনুমোদন দেবেন জেলাশাসক এবং কলকাতা পুরসভার কমিশনার। এরপরেই যোগ্য আবেদনকারীরা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা করে অনুদান পাওয়া শুরু হবে।
অন্নপূর্ণা যোজনা প্রকল্পের প্রাপকের তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কড়া নজর রাখছে রাজ্য প্রশাসন। বুধবার ফর্ম প্রকাশের সময় নাম-ঠিকানা ধরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দেখিয়ে দেন যে কীভাবে একজন পুরুষ মহিলাদের জন্য তৈরি প্রকল্পের টাকা পাচ্ছেন। এছাড়াও ভারতীয় নন এমন কেউ যাতে এই প্রকল্পের টাকা না পান সেদিকেও নজর রাখছে প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, এখন ২ কোটি ২০ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় ৩০ লক্ষ নাম বাদ যাবে। তথ্য ঠিক মতো যাচাই করে স্বচ্ছ প্রাপকের তালিকা প্রকাশ করা হবে। আবেদনের ফর্মটি মোট ১২ পাতার। এত বড় ফর্ম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ব্যাখ্যা দিয়েছেন যে, ফর্মে বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে যাতে একটি পরিবারের সমস্ত তথ্য সরকারের কাছে থাকে। এর ফলে অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রদানে সহায়তা হবে। ফর্ম পূরণে নবনির্বাচিত বিধায়ক থেকে শুরু করে সরকারি আধিকারিক সকলেই সহায়তা করবেন বলেও আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১ জুন থেকে শুরু হয়ে ৯০ দিন পর্যন্ত চলবে ফর্ম পূরণ প্রক্রিয়া।














