বিউ সরকারঃ রবিবার ছিল 'মন কি বাত'-এর মাসিক অনুষ্ঠান। ১৩৬ তম পর্বে এ দিন অন্যান্য ঘোষণার পাশাপাশি বাংলার হ্যান্ডলুমের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ বার সেই বার্তাতেই আশার আলো দেখছেন রাজ্যের বিজেপি নেতৃত্ব। মোদির ভাষণের পরপরই এ দিন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য সংবাদমাধ্যমের কাছে মুখ খোলেন।
শমীকের মতে, 'মন কি বাত' অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বাংলার হ্যান্ডলুমের কথা উঠে এসেছে, ফলে বাংলার তাঁত শিল্পীদের অচলাবস্থা কাটবে বলেই আশা। তাঁর দাবি, প্রধানমন্ত্রীর এই স্বীকৃতি বাংলার ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে জাতীয় স্তরে নতুন পরিচিতি দেবে। পৌঁছে দেবে এক অন্য মাত্রায়।
পাশাপাশি, এ দিন 'মন কি বাত'-এ প্রধানমন্ত্রী বাংলার মৃৎশিল্পের কথাও উল্লেখ করেন। বাংলার কৃষ্ণনগরের ঘুর্ণির মৃৎশিল্প প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নতুন সংসদ ভবনে সুসজ্জিত করে রেখেছেন বলে জানান। কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের কথাও বলেন। সে প্রসঙ্গেও শমীক জানান, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা মৃৎশিল্পের সঙ্গে যুক্ত হাজার হাজার পরিবারের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
শমীক ভট্টাচার্য এ দিন বলেন, "বাংলার তাঁতের শাড়ির সুনাম দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের আর্থিক দুরবস্থার কথা খুব কমই আলোচনায় উঠে এসেছে। একসময় শ্রীরামপুর-সহ বিভিন্ন এলাকার বহু তাঁতশিল্পী পেশা ছেড়ে অন্য জীবিকার সন্ধান করতে বাধ্য হয়েছিলেন। কেউ রিকশা চালিয়েছেন, কেউ অন্য পেশায় চলে গিয়েছেন।" তাঁর অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ বাণিজ্য, বাজারে পাওয়ারলুমে তৈরি শাড়ির আধিপত্য এবং নীতিগত পরিবর্তনের ফলে বাংলার ঐতিহ্যবাহী তাঁতশিল্প বড়সড় ধাক্কার মুখে পড়েছে।
মৃৎশিল্প প্রসঙ্গে বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি বলেন, "কৃষ্ণনগরের ঘূর্ণির শিল্পকর্মকে নতুন সংসদ ভবনে স্থান দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বাংলার শিল্প-ঐতিহ্যকে জাতীয় মর্যাদা দিয়েছেন।" তাঁর মতে, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই শিল্প নতুন করে পরিচিতি ও বাজারের সুযোগ পেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি কুমারটুলির শিল্পীদের বর্তমান পরিস্থিতির দিকেও নজর দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আরও বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীনে সরকার দুর্গাপুজোর আগেই মৃৎশিল্পীদের পাশে দাঁড়াবে। প্রতিমা নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় মাটি সংগ্রহে যাতে কোনও বাধা না আসে এবং শিল্পীরা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
















