আজকাল ওয়েবডেস্ক: দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইতিমধ্যেই আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ একাধিক শ্রমিক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ঘটনাস্থলে আসেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম (ববি)।
রবিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা এবং প্যান্ডেল সামগ্রীর গোডাউনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন এতটা ভয়াবহ ছিল, গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের ৭২ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অগ্নিদগ্ধ দেহগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায়, অনেকের দেহ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে মন্ত্রী ফিরাহাদ হাকিম বলেন, "ঘটনা পর থেকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্পূর্ণ কাজ তদারকি করেছেন। এমনকী স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম ও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সায়নী ঘোষও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ উদ্ধার কাজের তদারকি করেছেন। রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে আমি আজ এসেছি সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য। আগামিকাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে আসবে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।”
মৃত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের হাতে ডেট সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃত ব্যক্তিদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে। ঘটনার কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে দমকল সূত্রে অনুমান, দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তবে শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণ—তা এখনও স্পষ্ট নয়। ইতিমধ্যে প্যান্ডেল গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে বারুইপুর এলাকা থেকে আটক করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গাফিলতির দিকটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফিরহাদ হাকিম এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা খেয়াদা ২ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতে যান।
এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা এখনও হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের আশপাশে উদ্বেগ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। প্রশাসনের তরফে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
