আজকাল ওয়েবডেস্ক: বেলায় বেলায় লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। খানিকক্ষণ তল্লাশি অভিযান চালিয়েই উদ্ধার একের পর এক দেহাংশ। সূত্রের খবর অনুযায়ী, পুড়ে খাক হয়ে যাওয়া জোড়া গোডাউনে তল্লাশি চালিয়ে আরও শ্রমিকের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১। এখনও নিখোঁজ ২৭ জন শ্রমিক।
আনন্দপুর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থলে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। বুধবার বিকেল পাঁচটা থেকে শুক্রবার পর্যন্ত অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত এই ধারা বলবৎ থাকবে। বারুইপুরের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সন্দীপ পাঠক নরেন্দ্রপুর থানাকে এই নির্দেশ কার্যকরী করার জন্য অর্ডার দিয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে ১০০ মিটার দূরত্বে কোনও বিক্ষোভ, চারজনের বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, এবং কোনও প্রমাণ যাতে নষ্ট না করা হয়, তার জন্য এই নির্দেশ বলবৎ করা হয়েছে।
গতকাল সকালে আরও চারজনের দেহাংশ উদ্ধার করা হয়েছে আনন্দপুর নাজিরাবাদের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল থেকে। দেহাংশগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে কাঁটাপুকুর মর্গে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ড মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ডেকোরেটার্স ব্যবসায়ী গঙ্গাধর দাসকে (৫৯)। তাঁর বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুর জেলার খেজুরি থানার অন্তর্গত পূর্বচড়া গ্রামে। প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে ডেকোরেটার্সের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
প্রায় ১৩ বছর আগে পূর্ব মেদিনীপুরের পাশাপাশি কলকাতার অদূরে খেয়াদহ ২ গ্রাম পঞ্চায়েতের নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা ও গোডাউন চালু করেন গঙ্গাধর দাস। সেই গোডাউনেই রবিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উধাও হয়ে যান গঙ্গাধর দাস। তাঁর মোবাইল ফোনও দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
মঙ্গলবার নরেন্দ্রপুর থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়। অবশেষে মঙ্গলবার গভীর রাতে গড়িয়া এলাকা থেকে গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বারুইপুর জেলা পুলিশের সুপার শুভেন্দ্র কুমার। তিনি জানান, গোডাউনের মালিক গঙ্গাধর দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং পুরো ঘটনার তদন্ত চলছে।
রবিবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের জেরে নাজিরাবাদ এলাকায় কারখানা এবং প্যান্ডেল সামগ্রীর গোডাউনে বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন এতটা ভয়াবহ ছিল, গোটা এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল। দমকলের ১২টি ইঞ্জিনের ৭২ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রশাসনের তরফ থেকে এখনো পর্যন্ত আটজনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অগ্নিদগ্ধ দেহগুলির অবস্থা অত্যন্ত খারাপ হওয়ায়, অনেকের দেহ এখনও পর্যন্ত শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন করতে এসে মন্ত্রী ফিরাহাদ হাকিম বলেন, "ঘটনা পর থেকে রাজ্যের দুই মন্ত্রী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এবং সম্পূর্ণ কাজ তদারকি করেছেন। এমনকী স্থানীয় বিধায়ক ফিরদৌসী বেগম ও যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রের সংসদ সায়নী ঘোষও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছিলেন এবং সম্পূর্ণ উদ্ধার কাজের তদারকি করেছেন। রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে আমি আজ এসেছি সম্পূর্ণ বিষয় খতিয়ে দেখার জন্য। আগামিকাল ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের একটি দল ঘটনাস্থলে আসবে। মৃতদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ডিএনএ টেস্ট করা হবে।”
মৃত ব্যক্তিদের শনাক্তকরণের কাজ সম্পন্ন হয়ে যাওয়ার পর মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের হাতে ডেট সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে স্থানীয় পঞ্চায়েতের মাধ্যমে। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে মৃত ব্যক্তিদের পরিবার পিছু ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করা হবে। ঘটনার কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
