আজকাল ওয়েবডেস্ক: মঙ্গলবার কালীঘাটে নিজের বাড়ি থেকে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের জন্য ২৯১টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। তালিকায় এবার বেশ কিছু নতুন মুখ রয়েছেন। কিন্তু প্রাধান্য পেয়েছেন রাজনীতিকরাই। হুগলির চুঁচুড়া বিধানসভা থেকে এবার টিকিট পেয়েছেন তৃণমূলের মুখপাত্র দেবাংশু ভট্টাচার্য। এই বছর শিঁকে ছেড়েনি তিন বারের বিধায় অসিত মজুমদারের। তারপরেই রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন অসিত। 

কিছুদিন আগে ফেসবুকে গত ১৫ বছরে কাজের খতিয়ান এবং আগামীতে কী কী কাজ করতে চান সেই সংক্রান্ত তথ্য সকলের সামনে তুলে ধরেছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন তাঁকে হয়তো ভুলে যাবে না দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। কিন্তু মঙ্গলবার তালিকার প্রকাশের পরে মন ভেঙে যায় তাঁর। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অসিত বলেন, “রাজনীতি আর করব না। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।” এরপরেই তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, “দল কাজ করতে বললে কী করবেন?” উত্তরে তিনি বলেন, “দল কাজ করতে বললেই করতে হবে নাকি, আমি কি চাকর নাকি?”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতক অসিত চুঁচুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের তিন বারের বিধায়ক। তৃণমূলের টিকিটেই তিনবার জিতেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি দক্ষিণবঙ্গ রাজ্য পরিবহন কর্পোরেশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী লকেট চ্যাটার্জিকে ১৮ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়েছিলেন অসিত। তিনি পেয়েছিলেন এক লক্ষ ১৭ হাজার ১০৪টি ভোট। লকেট পেয়েছিলেন ৯৮ হাজার ৬৮৭টি ভোট। ২০১৬ সালে ফরওয়ার্ড ব্লকের প্রণব কুমার ঘোষকে প্রায় ৩০ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছিলেন। 

প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই মাঠে নেমে পড়েছেন তৃণমূলের কর্মীরা। হুগলিতে শুরু দেওয়াল লিখন। ছবি: পার্থ রাহা।

হুগলি জেলার ১৮টি বিধানসভার মধ্যে ১৪টি তৃণমূলের দখলে। আরামবাগ মহকুমায় বিজেপি পেয়েছিল চারটি। এবারে ১৪টি বিধানসভার মধ্যে ছ’টির প্রার্থীকেই বদল করেছে তৃণমূল। আনা হয়েছে নতুন মুখকে। উত্তরপাড়া কেন্দ্রে অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিককে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জির ছেলে শীর্ষাণ্য ব্যানার্জিকে। শ্রীরামপুরে ডাক্তার সুদীপ্ত রায়ের বদলে প্রার্থী করা হয়েছে তন্ময় ঘোষকে। চুঁচুড়াতে তিনবারের বিধায়ক অসিতের জায়গায় টিকিট দেওয়া হয়েছে দেবাংশুকে। সপ্তগ্রামে তিন বিধায়ক তপন দাশগুপ্তকেও টিকিট দেয়নি দল। প্রার্থী করা হয়েছে প্রাক্তন ফুটবলার বিদেশ বসুকে। অন্যদিকে, বলাগড়ে মনোরঞ্জন বেপারিকে টিকিট না দিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে হুগলি জেলা পরিষদের সভাধিপতি রঞ্জন ধারাকে। পান্ডুয়ার বিধায়ক ডাক্তার রত্না দে নাগকে সরিয়ে প্রার্থী করা হয়েছে সমীর চক্রবর্তীকে। ধনেখালি থেকে অসীম পাত্র, সিঙ্গুরে বেচারাম মান্না, চণ্ডীতলায় স্বাতী খন্দকার, চন্দননগরে ইন্দ্রনীল সেন, জাঙ্গিপাড়ায় স্নেহাশিস চক্রবর্তী, হরিপালে করবি মান্না, তারকেশ্বরে রামেন্দু সিংহ রায়, চাঁপদানিতে অরিন্দম গুইনের উপরই ভরসা রেখেছে দল। অন্যদিকে জেলার আরামবাগের চারটি আসনেই বিধায়ক ছিল বিজেপির। সেই চারটি আসনে আরামবাগ থেকে মিতা বাগ, উত্তরা থেকে পার্থ হাজারি, খানাকুল থেকে পলাশ রায় ও গোঘাট থেকে নির্মল মাঝিকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল।
 
মঙ্গলবার চাঁপদানির প্রার্থী তথা হুগলি শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরিন্দম গুইন বলেন, “দল প্রার্থী করেছে আমরা দলের হয়ে লড়ব। পাঁচ বছর কাজ করেছি, মানুষের অনেক আশীর্বাদ পেয়েছি। এটাই আমার কাছে বড় সম্পদ। মানুষের জন্য আরও কাজ করব। মানুষের যা অভিযোগ আছে সেগুলি মেটানোর চেষ্টা করব। মানুষের রায় তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষেই আছে।”