আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুরুতেই ছন্দপতন। খণ্ডঘোষের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নবীন বাগের নাম ঘোষণা হতেই দলের মধ্যে বিদ্রোহের সুর ভেসে উঠতে শুরু করেছে। গোটা রাজ্যের সঙ্গে পূর্ব বর্ধমানের কে কোথায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হবেন, তা স্থির হয়ে গেছে দলের সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির ঘোষণার পরেই। কিন্তু তার পরেই খন্ডঘোষে ব্লক সভাপতি তথা জেলা পরিষদের অধ্যক্ষ এবং জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ ও তাদের বেশ কয়েকজন অনুগামী বিদ্রোহ করেছেন। দলের সব পদ ও সব কাজ থেকে সরে আসার ঘোষণা করেছেন। 

‘খণ্ডঘোষ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নবীন বাগকে প্রার্থী মানব না’, এই দাবি জানিয়ে তৃণমূলের ব্লক সভাপতি অপার্থিব ইসলাম-সহ একঝাঁক নেতা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অপার্থিব ইসলামের অভিযোগ, “দলে থেকে যারা গদ্দারি করে তাঁদের মূল্যায়ন হয়। বিদ্রোহীরা কোনও ভাবেই নবীন বাগকে প্রার্থী হিসাবে মানবেন না। তাই তাঁরা দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে সমস্ত রকম কর্মসূচি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিচ্ছেন।”

ব্লক সভাপতির ছাড়াও যাঁরা পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন, জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় এবং গোপাল বেরা। এছাড়াও, কৈয়র, বেরুগ্রাম, সগরাই, শাঁকারি-১, উখরিদ অঞ্চলের অঞ্চল সভাপতিরাও পদত্যাগ করবেন।

ব্লক সভাপতির মতো একই অভিযোগ জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়েরও। আগামীকাল নিয়ম মেনে জেলা পরিষদের পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

খণ্ডঘোষে বিদ্রহের আবহ তৈরি হলেও পূর্ব বর্ধমানের ভাতারেও মিলনের বার্তা। প্রার্থী বদল হলেও এখানে বর্তমান বিধায়কের নির্দেশেই চলবেন বলে জানিয়ে দিলেন ভাতারের ঘোষিত প্রার্থী শান্তনু কোনার।  এদিন শান্তনু কোনারের নাম ঘোষণার পর সবাই মিলে উচ্ছাসে মাতেন। সেখানে উপস্থিত বিদায়ী বিধায়ক মানগোবিন্দ অধিকারীও ছিলেন। 

দলীয় সূত্রে খবর, শান্তনু কোনার সপ্রতিভ তরুণ নেতা। একসময় জেলার যুব সভাপতি ছিলেন। জেলা পরিষদের তথ্য, সংস্কৃতি কর্মাধ্যক্ষ। আগেও দেবু টুডু সভাধিপতি থাকাকালীন কর্মাধ্যক্ষ ছিলেন। মাঝে কিছুদিনের জন্য বিজেপিতে যোগ দিলেও কিছুদিন পরেই তৃণমূলে ফিরে আসেন। এলাকা ও জেলায় পরিচিত এই তরুণ তুর্কীকেই এবারে বেছে নিয়েছে দল। পরিবর্তন করা হয়েছে বর্তমান বিধায়ক মানগোবিন্দকে। 

এই বিষয়ে শান্তনু বলেন, “উনি (মানগোবিন্দ) আমার অভিভাবক। রাজনৈতিক সম্পর্কের বাইরে পরিবারের কাছে বটবৃক্ষ। তাঁর সঙ্গে পিতা ও সন্তানের সম্পর্ক।” শান্তনু এও জানিয়েছেন, মানগোবিন্দের পথনির্দেশ মেনেই চলবেন তিনি। জেতার ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী। 

মানগোবিন্দ বলেন,  “আমি এটাই চেয়েছিলাম। তাই ঘোষণা হতেই ছুটে এসেছি।” বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক জানিয়েছেন,  শান্তনু জিতলেও তিনি সব কাজে থাকবেন।

অন্যদিকে,  ভাতারে বিজেপির প্রার্থী আর এক তরুণ সৌমেন কার্ফা। এই বিষয়ে মানগোবিন্দ জানান, ওরা নিজেরাই মাঠ ছেড়ে দিয়েছে। ওদের নিয়ে ভাবি না।