মনিরুল হক: বিধানসভা নির্বাচনের মুখে কোচবিহারের দিনহাটায় চাঞ্চল্য। দিনহাটা শহরের একটি নিষিদ্ধপল্লীতে গভীর রাতে দুষ্কৃতীদের তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় মহিলাদের দাবি, আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে একদল যুবক এলাকায় ঢুকে ভয় দেখানো থেকে শুরু করে মারধর পর্যন্ত করেছে। ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সোমবার রাতে মুখে ওই এলাকায় প্রথমে কয়েকজন যুবক আসে। স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে তাদের বচসা বাঁধে। তখনই তারা হুমকি দিয়ে যায় যে, গভীর রাতে ফিরে এসে “হিসাব বুঝে নেবে”। অভিযোগ, সেই মতো রাত গভীর হলে পাঁচটি বাইকে করে কয়েকজন যুবক এলাকায় ঢোকে। এরপর তারা এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে বলে দাবি মহিলাদের। হামলার হাত থেকে রেহাই পায়নি শিশুরাও।

সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, এক পর্যায়ে দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র বের করে ভয় দেখাতে থাকে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয়। গোটা ঘটনাটি এলাকার সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর স্থানীয় মহিলারা একত্রিত হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী উদয়ন গুহ। অভিযোগ দায়েরের পর তিনি দাবি করেন, “যারা তাণ্ডব চালিয়েছে, তারা বিজেপি প্রার্থী অজয়ের রায়ের ঘনিষ্ঠ বা ছায়া সঙ্গী।” যদিও এই অভিযোগের জবাবে বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এছাড়াও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নিয়েও প্রশ্ন তোলেন উদয়ন গুহ। তাঁর বক্তব্য, “যেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং নির্বাচন কমিশনের নজরদারিতে সাধারণ মানুষকে তল্লাশির নামে হয়রানির অভিযোগ উঠছে, সেখানে এত রাতে পাঁচটি বাইকে করে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকল কীভাবে?” তিনি দাবি করেন, পুলিশ এই ঘটনায় যথাযথ ভূমিকা পালন করছে না।

ঘটনার পর এলাকায় চরম আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় মহিলাদের অভিযোগ, “আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। রাতে কী হবে, সেই ভয়েই দিন কাটছে।” তাঁদের দাবি, দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা আর না ঘটে।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক রং লেগেছে। নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ঘটনা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে তৃণমূল সরাসরি বিজেপিকে দায়ী করছে, অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের তরফে এখনও স্পষ্ট জবাব না আসায় বিতর্ক জোরদার হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।