আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা এলাকায় ফের উদ্ধার বোমা। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রবিবার উত্তর কাশীপুর থানার অন্তর্গত ছেলেগোয়ালিয়া এলাকায় একটি তৃণমূল কর্মীর বাড়ির পিছনে থাকা বাগান থেকে উদ্ধার হয়েছে বোমা। মোট ১০০টি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোরও।


পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে উত্তর কাশীপুর থানার পুলিশ ওই এলাকায় অভিযান চালায়। একটি নির্দিষ্ট বাড়িকে কেন্দ্র করে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় সেই বাড়ির পিছনের বাগানে তল্লাশি চালানো হয়। তল্লাশির সময় একটি ব্যাগের সন্ধান মেলে। সেই ব্যাগ খুলতেই তার ভিতর থেকে একে একে বেরিয়ে আসে মোট ১০০টি তাজা বোমা। সঙ্গে সঙ্গে গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ। পরে বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দলকে ডেকে এনে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই দাবি করেন, ভোটের আগে এভাবে বোমা উদ্ধার হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তাঁদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও এলাকায় টহল শুরু করে যাতে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।


এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। আইএসএফের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরাই এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এই বোমাগুলি মজুত করে রেখেছিল। তাঁদের দাবি, ভোটের আগে বিরোধীদের ভয় দেখানো এবং এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেই এই ধরনের অস্ত্র মজুত করা হচ্ছিল।


অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, এটি একটি চক্রান্ত। তৃণমূলকে বদনাম করার জন্যই আইএসএফ কর্মীরা রাতের অন্ধকারে ওই বাগানে বোমা রেখে গিয়েছে এবং এখন তার দায় তৃণমূলের উপর চাপানোর চেষ্টা করছে। তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, তাদের দল সবসময় শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পক্ষে এবং এই ধরনের ঘটনায় তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই।


উল্লেখযোগ্যভাবে, ভাঙড় বিধানসভা এলাকা অতীতে একাধিকবার রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও বোমাবাজির ঘটনায় শিরোনামে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। তার মধ্যেই গতকালও একটি অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বোমা উদ্ধারের ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।


প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় নিয়মিত টহলদারি চালানো হচ্ছে এবং কোনওরকম গুজব যাতে না ছড়ায় সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া বোমাগুলির উৎস কী, কারা এই বোমা মজুত করেছিল এবং এর পেছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কিনা—তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।


পুলিশের এক আধিকারিক জানান, “গোপন সূত্রে খবর পেয়েই আমরা দ্রুত পদক্ষেপ করি। তল্লাশি চালিয়ে বোমাগুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলি তাজা বোমা ছিল এবং সেগুলি যথেষ্ট বিপজ্জনক। আমরা ইতিমধ্যেই বোমাগুলি নিষ্ক্রিয় করেছি এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই দোষীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”


নির্বাচনের মুখে এই ধরনের ঘটনা নিঃসন্দেহে প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচন কমিশনও ইতিমধ্যেই রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


তবে ভাঙড়ের এই ঘটনার পর প্রশ্ন উঠছে, এত কড়াকড়ি থাকা সত্ত্বেও কীভাবে এলাকায় বোমা মজুত করা সম্ভব হল? স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এলাকায় আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে, রাজনৈতিক দলগুলির তরফে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।


সবমিলিয়ে, ভোটের আগে ভাঙড়ে ফের বোমা উদ্ধারের ঘটনা নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। এখন দেখার তদন্তে কী উঠে আসে এবং এই ঘটনার প্রকৃত দায় কার ওপর বর্তায়।