আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগেই বিরাট ধাক্কা। হুমায়ন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টি ছাড়লেন চার প্রার্থী। পশ্চিম বর্ধমানের তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা পাণ্ডবেশ্বরের প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর হাত ধরে যোগ দিলেন প্রার্থীরা।
২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। প্রথম দফাতেই ভোট গ্রহণ করা হবে পশ্চিম বর্ধমান-সহ অন্যান্য জেলায়। জানা গেছে, রানীগঞ্জের রাহুল ঘোষ, দুর্গাপুর পূর্বের রুবিয়া বেগম, বারাবনির অদ্বৈত্য দাস এবং পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জুবেদ শেখে ভোটে লড়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের কয়েক ঘণ্টা আগেই চার জন যোগ দিলেন তৃণমূলে। তাঁদের দাবি, উন্নয়নের স্বার্থেই তাঁদের এই দলবদলের সিদ্ধান্ত। এদিন এই চারজনের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে স্বাগত জানান জেলা তৃণমূল সভাপতি।
শেষ লগ্নে এই সিদ্ধান্তের কারণ কী? আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থীরা বলেন, "সংখ্যালঘু ভোট কাটতে হুমায়ুন দল তৈরি করেছে। তবে তাতে কিছু কাজ হবে না। সংখ্যালঘুদের উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কাজেও তার পরিচয় পাওয়া যায়। সে কারণেই তৃণমূলে যোগ দিলাম।"
তৃণমূল জেলা সভাপতি নরেন্দ্রনাথ বলেন, "মহিলা ভোট কাটতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টি বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী দিয়েছিল। কিন্তু তাতে কোনও লাভ হল না। সবাই বুঝতে পারছে তৃণমূলের উন্নয়ন। সে জন্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত শক্ত করতে তাঁরা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন। যাঁরা যোগ দিয়েছেন তাঁরা সকলেই তৃণমূলের হয়ে প্রচারে নামবেন।"
তবে এই প্রথম নয়। এর আগেও হুমায়নের দলের বহু প্রার্থী দল বদল করেছেন। সম্প্রতি মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির আর এক প্রার্থীও তৃণমূলে যোগ দেন। তাঁর সঙ্গে একঝাঁক দলীয় সমর্থক এবং এজেন্টও তৃণমূলে আসেন।
প্রসঙ্গত, সোমবারই আরও একটি ধুন্ধুমার ঘটনা ঘটে মুর্শিদাবাদের নওদা বিধানসভা এলাকায়। মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারের শেষ দিন। এ দিক সকালে নির্বাচনী প্রচারে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিশাল কনভয় নিয়ে প্রচারে বের হন হুমায়ুন কবীর। মধুপুর এলাকায় পৌঁছতেই পুলিশ তাঁর গাড়ি আটকে দেয় বলে অভিযোগ। নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়, ওই অঞ্চলে প্রচারের জন্য আগে থেকে হুমায়ুনের দলের তরফে কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। ফলে গাড়ি আর সামনে এগোতে দেওয়া যাবে না। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। হুমায়ুন কবীরের অনুগামী ও ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র কর্মী–সমর্থকরা নির্বাচন কমিশন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে দিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। ভিড়ের মধ্য থেকে পুলিশের দিকে উড়ে আসে বিভিন্ন বিরূপ মন্তব্য। কিছুক্ষণের জন্য মধুপুর মোড় অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে।















