ইন্দ্রজিৎ সাহু: খড়গপুরে গুজবের জেরে গণপিটুনির ঘটনা যেন নিত্যদিনের ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এক তরতাজা ইঞ্জিনিয়ার যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের চোর সন্দেহে এক যুবককে ইলেকট্রিক খুঁটিতে বেঁধে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল। ঘটনাটি ঘটেছে খড়গপুর লোকাল থানা এলাকার সাত নম্বর অঞ্চলের পাঁচপাড়া গ্রামে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সবং ব্লকের বিষ্ণুপুরের বাসিন্দা এক যুবক সোমবার রাত প্রায় সাড়ে আটটা নাগাদ ভুলবশত পাঁচপাড়া গ্রামে ঢুকে পড়েন। অভিযোগ, স্থানীয় কিছু মানুষ তাঁকে চোর সন্দেহে আটক করে ইলেকট্রিক খুঁটিতে বেঁধে ফেলে। এরপর শুরু হয় বেধড়ক মারধর। আক্রান্ত যুবক বহু কাকুতি-মিনতি করলেও দীর্ঘক্ষণ তাঁকে খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ। যুবককে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। আক্রান্ত যুবকের পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে সীমন্ত মিশ্র ও শ্রীকান্ত মিশ্র নামে দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি কেশিয়াড়ি এলাকার খাজরা পঞ্চায়েতের গিলাগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌম্যদীপ নামে এক ইঞ্জিনিয়ার যুবক গুজবের বলি হন। গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে কর্মস্থলে যাওয়ার পথে তাঁকে চোর সন্দেহে পথ আটকিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। কর্মস্থলের আইকার্ড দেখিয়েও রক্ষা পাননি তিনি। গুরুতর জখম অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে ওড়িশার ভুবনেশ্বর-এর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর ২০ ফেব্রুয়ারি তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

একের পর এক এমন ঘটনার পর পুলিশের তরফে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, যারা এলাকায় গুজব রটাবে বা আইন হাতে তুলে নেবে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সচেতনতার বার্তা পৌঁছনোর পরও কেন বারবার গুজবের বলি হচ্ছেন নিরীহ মানুষ? গণপিটুনির এই প্রবণতা রুখতে প্রশাসন ও সমাজ উভয়েরই সক্রিয় ভূমিকা এখন সময়ের অপেক্ষা।