আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বহরমপুর পুরসভার ধোপঘাটি এলাকায় অধীর চৌধুরীকে মালা পড়ানো হয়েছিল। নির্বাচন মিটতেই সেই এলাকার একমাত্র টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহে পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছেন ওই এলাকার শতাধিক মানুষ। 

ভোট শেষ হতেই টিউবওয়েল তুলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার ধোপঘাটি এলাকায় পৌঁছে যান বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী। ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত বহরমপুর পুরসভাকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে যদি ধোপঘাটি এলাকায় পুরনো টিউবওয়েলটি না বসানো হয় তাহলে শনিবার থেকেই তিনি পুরসভার সামনে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্নায় বসবেন। যদিও পানীয় জলের উৎস ওই টিউবওয়েলটি কে তুলে নিয়ে গিয়েছে তা জানা নেই বলেই দাবি করেছেন বহরমপুর পুরসভার আধিকারিকরা। 


প্রসঙ্গত, গত ২৩ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের দিন বহরমপুর পুরসভার অন্তর্গত কুঞ্জঘাটা এলাকায় ১ নম্বর বুথের কাছে অধীর চৌধুরী পৌঁছলে সেখানে তাঁকে পাখার ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য একটি পরিবারের তিন সদস্যকে আক্রমণ করার অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার রেশ মেলাতেই এবার পানীয় জলের ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন বহরমপুরের তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। 

বহরমপুর বিধানসভা এলাকায় এবছর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ছিলেন খোদ বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি। বহরমপুর কেন্দ্রে এবছর মূল লড়াই অধীর চৌধুরীর সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি এবং বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্রর। ত্রিমুখী এই লড়াইয়ে কে জয়ী হবেন তা জানা যাবে ৪ মে ফল প্রকাশের দিন। 

ধোপঘাটি এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, নির্বাচন ঘোষণার কিছুদিন আগে তাঁদের এলাকায় বেশ কয়েকটি নতুন ‘‌ট্যাপকল’‌ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ ট্যাপকল থেকে যে জল বার হয় তা পানের যোগ্য নয়। সেই কারণেই ওই এলাকার প্রায় ৬০–৭০ টি পরিবার নিয়মিত একটি টিউবওয়েল থেকেই পানীয় জল সংগ্রহ করতেন। 

ফরিদা বিবি নামে ওই এলাকার এক বাসিন্দার অভিযোগ, ‘‌গত পাঁচ দিন আগে হঠাৎ করেই কিছু তৃণমূল কর্মী এলাকায় এসে টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যান। তাঁরা আমাদের জানিয়েছেন এলাকারই কিছু বাসিন্দা নাকি টিউবওয়েলটি নিয়ে পুরসভায় অভিযোগ জানিয়েছেন, সেই কারণেই আমাদের এলাকার পানীয় জলের একমাত্র উৎসটি খুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’‌
 
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করলে তৃণমূল কর্মীরা তাঁদের জানিয়েছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই আবার নতুন একটি টিউবওয়েল বসিয়ে দেওয়া হবে। যদিও গত পাঁচ দিনে নতুন করে কোনও টিউবওয়েল না বসানোর কারণে প্রখর গ্রীষ্মে এলাকার বাসিন্দারা পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগছেন। 

ওই এলাকারই অপর এক বাসিন্দা রওশনারা বিবি বলেন, ‘‌পুরসভার তরফ থেকে যে ট্যাপ কলের ব্যবস্থা করা হয়েছে তার জল পানের অযোগ্য। সেখান থেকে সবুজ জল বার হয়। সেই কারণেই আমরা বাধ্য হয়ে টিউবওয়েলের জলই পান করে থাকি। কিন্তু কোনও কারণ ছাড়া গ্রীষ্মকালে টিউবওয়েলটি খুলে নিয়ে যাওয়ায় আমরা প্রচণ্ড কষ্টের মধ্যে রয়েছি। অনেককেই পানীয় জল কিনে খেতে হচ্ছে।’‌
 
এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচার পর্বে অধীর চৌধুরী যখন ধোপঘাটি এলাকায় প্রচার করতে এসেছিলেন সেই সময় ওই এলাকার কিছু বাসিন্দা তাঁকে ফুলের মালা পরিয়ে স্বাগত জানিয়েছিলেন। তাঁদের অনুমান, সম্ভবত সেই ‘‌আক্রোশ’‌ থেকেই ভোট মিটতেই এলাকার একমাত্র পানীয় জলের উৎসটি ইচ্ছাকৃতভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
 
গোটা ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার সেখানে পৌঁছে যান অধীর চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘‌অত্যন্ত অমানবিক এই ঘটনা। বহু বছর ধরে এই এলাকার টিউবওয়েলটি ছিল। হঠাৎ কী ঘটল যে ভোট মিটতেই টিউবওয়েলটি তুলে নিয়ে যেতে হল তা কারোরই বোধগম্য হচ্ছে না।’‌ তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘‌পুরসভার তরফ থেকে আজকের মধ্যে যদি নতুন করে টিউবওয়েল বসিয়ে না দেওয়া হয় তাহলে কাল থেকেই আমি এই এলাকার বাসিন্দাদের নিয়ে পুরসভার সামনে ধর্নায় বসব।’‌
 
বহরমপুরের কংগ্রেস প্রার্থীর কথায়, ‘‌ভোটের ফল এখনও প্রকাশ হয়নি। এলাকার বাসিন্দারা হয়ত আমাকে ভোট দিয়েছেন, সম্পূর্ণ এই সন্দেহ থেকে এলাকার টিউবওয়েলটি খুলে নেওয়া হয়েছে। এই গরমে পানীয় জল না পেয়ে মানুষের বুকের ছাতি  ফেটে যাচ্ছে। আমি গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চাইছি।’‌ 


এরপরই অধীর চৌধুরী নিজের দলের কর্মীদের নির্দেশ দেন, একটি জলের ট্যাঙ্কার ভাড়া করে আজই এলাকার বাসিন্দাদের পানীয় জলের সমস্যা মেটানোর জন্য।

 অধীরের তোলা অভিযোগ অস্বীকার করে বহরমপুর টাউন যুব তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি পাপাই ঘোষ বলেন, ‘‌নির্বাচনে পরাজয় অবশ্যম্ভাবী বুঝতে পেরে অধীর চৌধুরী এখন পাগল হয়ে গিয়েছেন। তাই একসময় দেশের বিরোধী দলনেতাকে একটা জলের কল নিয়ে রাজনীতি করতে হচ্ছে। সারা জীবনে অধীর চৌধুরী কোনওদিন ধোপঘাটির গলিতে ঢোকেননি। এখন লোক দেখানো নাটক করতে সেখানে গিয়েছেন। ৪ তারিখ ফল প্রকাশের পর অধীর চৌধুরী বহরমপুর থেকে ‘‌প্যাক আপ’‌ করে চলে যাবেন। আর তাঁর দেখা পাওয়া যাবে না।’‌