আজকাল ওয়েবডেস্ক: নন্দীগ্রাম। বাংলার রাজনীতিতে সিঙ্গুর  নন্দীগ্রাম কাজ করেছিল পালাবদলের। ২০২১-এর ভোটেও নন্দীগ্রাম ছিল হাইভোল্টেজ কেন্দ্র। ভোট এখনও কিছুটা দূরে। তবে এখন থেকেই পারদ চড়ছে নন্দীগ্রামে। তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি, ডায়মন্ড হারবারের মতোই বৃহস্পতিতে নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় ক্যাম্প শুরু করলেন। এই ক্যাম্পকে ঘিরেই একপ্রকার পারদ চড়ছে শুভেন্দু অধিকারীর বিধানসভা কেন্দ্রে। নন্দীগ্রাম, যে নন্দীগ্রাম থেকেই মমতা ব্যানার্জিকে হারিয়ে বিধায়ক শুভেন্দু, সেখানে দাঁড়িয়েই তাঁকে একহাতও নিলেন অভিষেক। 

 

অভিষেককে  এদিন প্রশ্ন করা হয়, 'এখানকার বিরোধী দলনেতা প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে একাধিকবার ঘোষোনা করেছেন, অভিষেক ব্যানার্জি যে সেবাশ্রয় প্রকল্প করেছেন তার পাই পাই হিসেব নেব, কোথা থেকে টাকা আসছে, চিকিৎসক কারা আসছেন, সমস্তকিছুর হিসেব দিতে হবে। কী বলবেন?'

উত্তরে অভিষেক বলেন, 'জিজ্ঞাসা করুন, আপনি হিসেব নেওয়ার কে? হিসেব নেবে অথরিটি, হাইকোর্ট, ইনকাম ট্যাক্স, তদন্তকারী সংস্থাও নিতে পারে। জিজ্ঞাসা করুন, আপনি হিসেব নেওয়ার কে? আপনাকে অধিকার কে দিয়েছে? নামের পিছনে অধিকারী রয়েছে মানেই এই নয় যা ইচ্ছে অধিকার রয়েছে। আমার বিরুদ্ধে সমস্যা থাকলে মামলা করুন। আপনার ইডি-সিবিআই ছ' বছর ধরে আপনার পিছনে লেগে রয়েছে।'

 

এছাড়াও, বক্তব্য জুড়ে, একাধিক ইস্যুতে অভিষেক শুভেন্দু অধিকারী, গেরুয়া শিবিরকে বারেবারে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। উঠে এসেছে এসআইআর প্রসঙ্গ, মানুষের হয়রানির কথাও।

এদিন শুরুতেই অভিষেক বলেন, পরপর আবেদন, তারপরেই একেবারে নিজের লোকসভা কেন্দ্রের ছকে নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয়-এর পরিকল্পনা তাঁর। বৃহস্পতিবার অভিষেক উপস্থিত ছিলেন নন্দীগ্রামের সেবাশ্রয় ক্যাম্পের উদ্বোধনে। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম বিধানসভা, কিংবা যে লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত এই বিধানসভা, তার কোনও আসনই তৃণমূল কংগ্রসের নয়। এই প্রসঙ্গ এদিন অভিষেকের কথাতেও উঠে আসে। অভিষেক ব্যানার্জি এদিন বলেন, 'নন্দীগ্রাম এমন একটি লোকসভা কিংবা বিধানসভার অন্তর্গত, যেখানে আমাদের বিধায়ক নেই, সাংসদও নেই। সেই কারণেই দায়িত্ব আমার নিজের কাঁধে নিতে হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায়, যেখানে আমাদের বিধায়ক সাংসদ রয়েছে, একাধিক জায়গায় সেবাশ্রয় হচ্ছে।' 

১৫ জানুয়ারি নন্দীগ্রামে শুরু হল এই ক্যাম্প। আগামী ১৫ দিন এই খেলা চলবে। মাঝে কেবল বন্ধ থাকবে সরস্বতী পুজোর দিন। কিছু রেফারেল কেস যাবে উলুবেড়িয়া, কলকাতা, সেকথাও জানান তৃণমূল সাংসদ। 

উল্লেখ্য,অভিষেক নিজে উপস্থিত থাকলেও এই ক্যাম্প উদ্বোধন করেননি। করেছেন শহিদ পরিবারের সদস্যরা। এই মানুষগুলোকে অনেকে ভুলে গিয়েছে কিন্তু এই মাটির প্রতি তাঁদের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।'

 

অভিষেক এদিন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলে, তাঁকে প্রশ্ন করা হয় আই-প্যাক মামলার সুপ্রিম  শুনানি নিয়েও। 

উত্তরে অভিষেক বলেন, 'আই প্যাক- কী হয়েছে আমি জানি না। সারাদিন বাইরে ছিলাম।' তারপরেই এফআইআর-এ স্থগিতাদেশ, ফুটেজ প্রসঙ্গে তাঁর মন্তব্য, 'কোর্টের ম্যান্ডেট রয়েছে নির্দেশ দেওয়ার। সুপ্রিম  কোর্ট যদি নির্দেশ দিয়ে থাকে, ঠিক আছে। তাতে অসুবিধা কী আছে। মামলা তো শেষ  হয়ে যায়নি। পরবর্তী শুনানির দিন নিশ্চয় দিয়েছে আজকে। সেদিন আবার মামলা হবে। আবার লড়াই হবে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন যেটা, আইপ্যাকের নাম করে কেবল বাংলায় রেড হয়েছে। আই-প্যাকের অফিস রয়েছে হায়দরাবাদে, তামিলনাড়ুতে, চেন্নাইয়ে। সেখানে করলেন না রেড। আইপ্যাকের আরও তিনজন ডিরেক্টর রয়েছে, তাঁদের বাড়িতে রেড করলেন না। রেড করলেন এখানে।' এখানেই শেষ নয়, এর পরেই অভিষেক বলেন,  'রেড সংক্রান্ত কিছু তথ্য আমাদের হাতেও রয়েছে। যাঁরা  সুপ্রিম কোর্টে হাই কোর্টে মিথ্যে কথা বলছে, তাঁদেরকে যদি  আমরা আগামিদিনে কন্টেন্ট অফ কোর্ট করে কিছু তথ্য হাইকোর্ট সুপ্রিম কোর্টের সামনে তুলে ধরে , তাঁরা পালানোর জায়গাও পাবেন না।' ইডির পাঞ্চনামার উল্লেখও করেন।