আজকাল ওয়েবডেস্ক: সামনেই ভোট। ভোটের মুখে, বাংলার শাসক দল যে আত্মবিশ্বাসী, তা স্পষ্ট। এবার ফের, ভোটের আগেই, বড় দাবি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের। সোমবার নজরুল মঞ্চে অভিষেকের গলায় ২৫০-এর বেশি আসন পাওয়ার প্রত্যয়। তবে, এই ভোটে তৃণমূলের নজরে যে তফশিলি ভোট, তা বোঝা গিয়েছিল আগেই। নজর ছিল, 'তফশিল সংলাপ'-এ অভিষেকের বক্তব্যের দিকে।
এদিন তফশিলি সংলাপে অভিষেক বলেন, 'তফশিলি জাতির ক্ষেত্রে নির্যাতন ও আক্রমণের ঘটনায় গোল্ড মেডেল উত্তরপ্রদেশ, সিলভার মেডেল রাজস্থান ও ব্রোঞ্জ মেডেল পেয়েছে মধ্যপ্রদেশ। এই তিনটে তথ্য কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের।' ভোটমুখী বাংলায়, সোমবার, নজরুল মঞ্চ থেকে দলের নেতা কর্মীদের নয়া কর্মসূচি বুঝিয়ে দিলেন অভিষেক। তিনি বলেন, রাজ্যে ৮৪ বিধানসভা আছে এস সি, এসটি সমন্বিত। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের বার্তা, ওই জায়গাগুলিতে গিয়ে বোঝাতে হবে বিজেপিকে ভোট দেওয়া আর খাল কেটে কুমীর আনা এক।
তবে শুধু নিজেদের জয়ী হওয়ার প্রত্যয় ছিল না অভিষেকের গলায়, সঙ্গেই ছিল রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দল বিজেপি নিয়েও বার্তা। পয়েন্ট ধরে ধরে অভিষেক এদিন গেরুয়া শিবিরকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি।
অভিষেক এদিন বলেন, 'বাংলার মানুষের টাকা গায়ের জোরে আটকে রেখে গুজরাটে পাঠাচ্ছে, বিহারে পাঠাচ্ছে, উত্তরপ্রদেশে পাঠাচ্ছে। আমাদের টাকা গত সাত বছরে বাংলা থেকে কর বাবদ সাত লক্ষ কোটি টাকা এই বিজেপির সরকার তুলে নিয়ে গিয়েছে।'
অভিষেকের কথায় এদিন, বাংলার মনীষীদের অসম্মানের প্রসঙ্গ। বলেন, 'আমাদের মনীষীদের, বিপ্লবীদের হেয় করা হয়েছে, ছোট করা হয়েছে।' কথায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের প্রসঙ্গ। অভিষেক বলেন, 'বিজেপির নেতারা এসে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে বলছেন রবীন্দ্রনাথ সান্যাল। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছে। সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে বলা হচ্ছে বঙ্কিমদা, ভাবুন! দেশটাকে কোথায় নিয়ে গিয়েছে।'
এদিন অভিষেক বলেন, 'বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে খাল কেটে কুমির আনা।' একইসঙ্গে, ভোটের মুখে বার্তা, সাধারণ মানুষের আরও কাছে পৌঁছে যেতে হবে শাসক দলকে, বোঝাতে হবে, এই জমানায়, তৃণমূল সরকার রাজ্যের মানুষের জন্য কী কী করেছে। ভোটের মুখে আবার বড় বার্তা দেন নেতাদেরও। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ভোটের মুখে লড়াইয়ের রূপরেখা তৈরি করে দিলেন ঠিকই, সঙ্গেই বার্তা দিলেন, তাঁরা যেন আত্মতুষ্টিতে না ভোগেন।
&t=13s
