আজকাল ওয়েবডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী সাংসদদের সাংসদ পদ বাতিলের দাবি নিয়ে এবার লোকসভার স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন অভিষেক ব্যানার্জি। শুক্রবার কল্যাণ ব্যানার্জি, মহুয়া মৈত্র, ডেরেক ও ব্রায়েনকে সঙ্গে নিয়ে স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অভিষেক।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক সংবিধানের দশম তফসিলে ধারা প্রকাশ্যে আনেন। তৃণমূল সাংসদ জানান, সংবিধানের দশম তফসিলে স্পষ্ট লেখা আছে যে দলত্যাগের ঘটনা ঘটলে বা কেউ স্বেচ্ছায় নিজের দলের সদস্যপদ ত্যাগ করলে তাঁকে সাংসদ পদও ছাড়তে হবে।
তিনি বলেন, ‘যদি আপনি অন্য কোনও রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, তার মানে আপনি তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যপদ ছেড়েছেন। একসঙ্গে তো দু’জায়গায় চাকরি করা যায় না। কোনও না কোনও একটা জায়গা বেছে নিতে হয়। আপনি যদি একটি প্রতীকে জিতে আসেন এবং দু’বছর পরে হঠাৎ দাবি করেন যে আপনি অন্য একটি রাজনৈতিক দলে যোগ দিচ্ছেন, তাহলে সেই মুহূর্তেই আপনার লোকসভার সদস্যপদ চলে যাওয়া উচিত।’
এদিন বিদ্রোহী সাংসদদের ‘মার্জার’ দাবি নিয়ে মুখ খোলেন অভিষেক। তিনি বলেন, ‘তাঁদের দাবি, তাঁরা নাকি অন্য একটি দলের সঙ্গে মিশে গিয়েছেন। এবং তাঁরা টু-থার্ড মেজরিটিতে রয়েছেন। কিন্তু দশম তফসিলের যে বিধান রয়েছে, সেখানে স্পষ্ট বলা আছে, মার্জার তখনই বৈধ যখন একটা রাজনৈতিক দলের দুই-তৃতীয়াংশ অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে মিশে যাবে। শুধু সাংসদদের দুই-তৃতীয়াংশ মিশে গেলেই হবে না।’
অর্থাৎ, অভিষেকের বক্তব্য, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি, রাজ্য কমিটি, সংগঠন সহ তৃণমূল কংগ্রেসের সমস্ত পদাধিকারী ও সাংগঠনিক কাঠামোর দুই-তৃতীয়াংশ যদি অন্য দলে মিশে যায় তাহলেই সেটাকে ‘মার্জার’ হিসেবে গণ্য করা হবে।
তৃণমূল সাংসদ জানান, ২০ জন বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদই যে ভবিষ্যতে লোকসভায় থাকার অযোগ্য সেই মর্মে স্পিকারের কাছে ২০টি আলাদা আবেদন জমা দিয়েছেন এদিন। তিনি বলেন, ‘আমরা দাবি জানিয়েছি, স্পিকারই এই বিষয়ে বিচারক। সুপ্রিম কোর্টেরও নির্দেশ রয়েছে যে এই ধরনের মামলায় তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমরা সুপ্রিম কোর্টের একাধিক রায় তাঁর সামনে তুলে ধরেছি। যাঁরা আলাদা গ্রুপ দাবি করছেন, যাঁরা চাইছেন তাঁদের বসার ব্যবস্থা আলাদা হোক, তাঁদের আলাদা স্বীকৃতি দেওয়া হোক, তাঁদের মধ্যে কাউকে লোকসভার নেতা, কাউকে চিফ হুইপ, কাউকে ডেপুটি লিডার করা হোক এসব হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সবার আগে তাঁদের অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। যদি এদের মধ্যে সামান্যতম সততা থাকে, তাহলে নিজের পদ ছেড়ে দিন। পদ ছেড়ে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করুন।’
বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদেরও আক্রমণ করেছেন অভিষেক। বলেন, ‘এই ২০ জন যেভাবে অসততার সঙ্গে সংবিধানকে অমান্য করেছেন, অসম্মান করেছেন, দশম তফসিলের নিয়মকে উপেক্ষা করেছেন এবং মানুষের দেওয়া ম্যান্ডেটের সঙ্গে খেলেছেন, তাঁরা নিজেদের বিবেক, সম্মান ও সততা বিক্রি করেছেন। বাংলার মানুষ তাঁদের কখনও ক্ষমা করবে না।’
অভিষেক জানান, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আশ্বাস দিয়েছেন তিনি বিষয়টি শুনবেন। অন্য পক্ষের কথাও শুনবেন। ফের তলব করা হবে। উল্লেখ্য, অভিষেকের ব্যক্তিগত বিমানে দিল্লি যাওয়া নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।
অভিষেক বলেন, ‘যারা বলছেন আমি কীসে আসছি, কীসে যাচ্ছি, কোথা থেকে নামছি—তারা যদি লিখিতভাবে দিয়ে দেন যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইকোনমিক ক্লাসে যাবে, তাহলে আমি ইকোনমিক ক্লাসে যাব।’















