খুলে গেল 'ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং বার', গেলেই মিলবে চাকরি সংক্রান্ত টিপস, সঙ্গে ফ্রি'তে মদ!
নিজস্ব সংবাদদাতা
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৪ : ৪৪
শেয়ার করুন
1
8
ক্যারিয়ার নিয়ে দোলাচল—বেতন কি বাজারদরের মতো? এখনই কি চাকরি বদলানো উচিত? কাজের প্রতি আগের মতো আগ্রহ কেন নেই?—এই প্রশ্নগুলো এখন প্রায় সার্বজনীন। Viru Sahastrabuddhi-র সেই বিখ্যাত সংলাপ, “লাইফ ইজ এ রেস…”, আজকের ‘হাসল কালচার’-এ যেন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। এই মানসিক চাপের মধ্যেই জাপানে তৈরি হয়েছে এক অভিনব জায়গা—ক্যারিয়ার কাউন্সেলিংয়ের বার।
2
8
নাম তার Tenshoku Sodan Bar—অর্থাৎ ‘চাকরি-বদল পরামর্শ বার’। সম্প্রতি চালু হওয়া এই বারের ধারণা এসেছে একেবারে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে। মালিক শোটা উমেমোতো জানান, অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় কর্মীদের চাকরি-সংক্রান্ত দুশ্চিন্তা শুনতেই তাঁর মনে হয়—এমন একটা জায়গা দরকার, যেখানে মানুষ চাপমুক্ত পরিবেশে ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলতে পারবে।
3
8
এই বারের লক্ষ্য চাকরি বদলাতে উৎসাহ দেওয়া নয়, বরং প্রথমে নিজের ভাবনাগুলো গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করা। অনেকেই চাকরি একেবারে ছেড়ে দিতে চান না, আবার পুরো সন্তুষ্টও নন—এই ‘গ্রে জোন’-এ থাকা মানুষদের জন্য নিরপেক্ষ পরামর্শ পাওয়া কঠিন। পরিবার বা বন্ধুদের কাছে গেলে অনেক সময় ব্যক্তিগত প্রত্যাশা বা উদ্বেগ কথোপকথনে প্রভাব ফেলে। সেই জায়গাতেই নিরপেক্ষ, পেশাদার শোনার মানুষ দিতে চায় এই বার।
4
8
সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি উঠে আসে, তা হল কাজের পরিবেশ। অতিরিক্ত কাজের চাপ, পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব এবং কাজ–জীবনের ভারসাম্যহীনতা নিয়ে বহু মানুষ উদ্বিগ্ন। এই বার সেই সন্দেহ, অনিশ্চয়তা, হতাশা ও প্রশ্নগুলোকে স্বাভাবিকভাবে আলোচনায় আনার জায়গা তৈরি করেছে।
5
8
তবে এটি সাধারণ বার নয়। এখানে যাওয়ার জন্য আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়। প্রায় ৬০ থেকে ৯০ মিনিটের সেশন হয় ব্যক্তিগত রুমে। গোপনীয়তা বজায় রাখা হয় জাপানের শ্রম দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী। আর সবচেয়ে বড় চমক—এখানকার ‘বারটেন্ডার’রা আসলে জাতীয়ভাবে স্বীকৃত ক্যারিয়ার কনসালট্যান্ট, মানবসম্পদ সংস্থার নির্বাহী বা ব্যবসায়ী। অতিথিরা নিজের পছন্দমতো বিশেষজ্ঞ বেছে নিতে পারেন।
6
8
এখানে আসেন বিভিন্ন বয়স ও পেশার মানুষ—রেস্তোরাঁ ম্যানেজার, নার্স, বিনোদন জগতের কর্মী থেকে শুরু করে বড় কর্পোরেট সংস্থার শীর্ষকর্তাও। প্রথম মাসেই প্রায় ৬০ জন অতিথি এসেছেন, যার মধ্যে ১৫ জন আবার ফিরে এসেছেন দ্বিতীয়বার।
7
8
সবচেয়ে অবাক করা বিষয়—এখানে কোনও পরামর্শ ফি নেই। পানীয়, অ্যালকোহলিক হোক বা নন-অ্যালকোহলিক, সবই বিনামূল্যে। উদ্দেশ্য একটাই—মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের কথা খুলে বলতে পারেন। তাহলে ব্যবসা চলে কীভাবে? বারের পরিচালনাকারী সংস্থা LIA Staffing Co.-র মাধ্যমে। যদি কোনও অতিথি চাকরি বদলাতে আগ্রহী হন এবং পরবর্তীতে কোনও সংস্থা তাঁকে নিয়োগ করে, তখন সেই সংস্থার কাছ থেকে রেফারেল ফি পাওয়া যায়।
8
8
একসময় বার মানেই ছিল সমস্যা ভুলে থাকার জায়গা। কিন্তু এই নতুন ধারণায় বার হয়ে উঠেছে সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার স্থান। হয়তো এটাই সময়ের ইঙ্গিত—মানুষ শুধু কাজ করতে চায় না, কাজের অর্থও খুঁজতে চায়। প্রশ্ন উঠতেই পারে—ভারতে এমন উদ্যোগ কি সম্ভব? যেখানে কর্মজীবনের চাপ, অনিশ্চয়তা আর ‘রেস’-এর দৌড়ে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ অন্তত এক সন্ধ্যার জন্য নির্ভয়ে নিজের মনের কথা বলতে পারে? সময়ই তার উত্তর দেবে।