আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর আতঙ্কে মুর্শিদাবাদে মৃত্যু অব্যাহত। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার নওদাপাড়া গ্রামে এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হল ৪৮ বছর বয়সী এক ব্যক্তির। মৃতের নাম আকসার শেখ। স্বামী, স্ত্রী ও চার ছেলে সহ ছয় জনের সংসার তাঁদের। আকসারের তিন ছেলে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে ভিনরাজ্যে কর্মরত। পরিবারের অভিযোগ, এসআইআর আতঙ্কে মৃত্যু হয়েছে বাড়ির গৃহকর্তার।
মৃতের এক আত্মীয় জানান, এসআইআর–এর জন্য বিএলও–র কাছে প্রয়োজনীয় নথি সহ ‘এনুমারেশন ফর্ম’ জমা দিয়েছিল তাঁরা সকলে। কিন্তু কিছুদিন আগে শুনানির নোটিশ যায় তাঁদের বাড়িতে। ফলে নাগরিকত্ব হারানোর আতঙ্কে ভুগছিলেন আকসার । সোমবার রাতে হঠাৎই আকসারের বুকে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হয়। বাড়ির লোকজন তৎক্ষণাৎ তাঁকে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা আকসারকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে দেন। হাসপাতালে যাওয়ার পথেই রাস্তায় মৃত্যু হয় আকসারের।
মৃত আকসার শেখের প্রতিবেশী মঈনুদ্দিন শেখ বলেন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পরেই বিএলও–র কাছে গিয়ে আকসার প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছিল। এরপর নাম ভুলের জন্য এসআইআর শুনানির নোটিশ আসে আকসার শেখের বাড়িতে। শুনানি শুরু হওয়ার পর থেকেই সে কার্যত আতঙ্কের মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছিল। পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নামও শুনানিতে আসায় মানসিক চাপে ছিল সে।’ তিনি আরও বলেন, ‘প্রচন্ড মানসিক চাপে নিজেকে ধরে রাখতে পারেনি সে। সোমবার রাতে তাঁর শরীর খারাপ হতেই বাড়ির লোকজন নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা আকসারকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু সেখানে নিয়ে যাওয়ার পথেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে আকসারের মৃত্যু হয়।’
প্রসঙ্গত, এসআইআর এর শুনানি শুরু হতেই মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূলের দুই বিধায়ক জাকির হোসেন এবং বাইরন বিশ্বাস সহ লক্ষাধিক মানুষ ডাক পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের হয়রানির শিকার হয়ে কিছুদিন আগে উত্তেজিত জনতা ফরাক্কা বিডিও অফিসে ভাঙচুরও চালিয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকায় দেশ ছাড়া হওয়ার আতঙ্কে আত্মঘাতী হন একাধিক সাধারণ মানুষ। এসআইআর–এর কাজের চাপ সামলাতে না পেরে আত্মঘাতী হয়েছেন এই কাজের সঙ্গে যুক্ত বিএলও।
জলঙ্গির তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘এসআইআর আতঙ্কে যেভাবে মানুষ মারা যাচ্ছেন তাতে আমিও আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি। আমি জানি না আর কত মানুষ এসআইআর আতঙ্কে মারা যাবে। সাগরপাড়া–রক্সীর মোড় এলাকার বাসিন্দা এক মহিলা এসআইআর আতঙ্কে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে ডোমকল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। আকসারও এসআইআর আতঙ্কে মারা গিয়েছে।’ তৃণমূল বিধায়ক বলেন, ‘এসআইআর শুনানি পর্বে কোনও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নথি জমা করে ছাড় পাচ্ছেন। আবার কারও সেই ছাড় মিলছে না। তার ফলে একই পাড়ার মধ্যে অবস্থিত যে সমস্ত ব্যক্তিদের নাম চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় থাকবে কী না সেই বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না তাঁদের মধ্যে অনেকে আতঙ্কে মারা যাচ্ছেন।’
