গৌতম রায়: বর্ষা এখন প্রায় দোরগোড়ায়। চিটপিটে গরমের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্যে সকলেরই মন একদম আঁকুপাকু করছিল। প্রচন্ড গরমের মধ্যে কোনও কোনও দিন বিকেলের দিকে আকাশে একটু মেঘ জমতে দেখে ময়ূর মনটা অনেকেরই হয় তো, তাতা থইথই, তাতা থই করে উঠেছিল।
সকলেরই নজর আবহাওয়া দপ্তর কী বলে- সেদিকে। যতোই এসি থাকুক না কেন ঘরে ঘরে। বর্ষা, বৃষ্টি-- লা জবাব। বৃষ্টির শব্দই মনটাকে যেন কেমন কেমন করে দেয়। কারও মনে বৃষ্টির শব্দ, বুকে আটকে থাকা কান্নাকে একেবারে ঝর্ণার জলের মত বের করে দেয়। কেউ বা তার প্রেমিক সত্তাকে বয়সের বাধা ভুলে চিরকিশোর করে দেয়।
ছোটবেলার বর্ষা, তরুণবেলার, যুববেলার, প্রৌড়ত্ব থেকে বুড়োবেলা -- সব কটা সময়েরই বর্ষার একটা নিজস্ব স্বাদ থাকে। আজকের তরুণেরা বর্ষার যে স্বাদ বুক ভরে নেয়, সেই স্বাদের সঙ্গে আজকের প্রৌঢ় বা বৃদ্ধের স্বাদের মিল কতটুকু? নগরায়ন এখন প্রকৃতির স্বাদের তারতম্য ঘটিয়েছে অনেক। এখন খোলা মাঠ প্রায় নেইই। চারিদিকে কংক্রিটের জঙ্গল।
তবু শকুন্তলার প্রেমে এখানে হৃদয় বাধে মানুষ। কিশোর থেকে বৃদ্ধ- পুরুষ হোন বা রমণী, তিনি কিন্তু বর্ষার আমেজ সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঠিক গায়ে মেখে নেন।অনেকটা সেই কবীর সুমনের গান, হাত পেতে নিয়ে চেটে পুটে খাই বিসমিল্লার পাগলা সানাইয়ের মতো।
হঠাৎ বৃষ্টির বিরক্তি। আবার হঠাৎ বৃষ্টির আনন্দ। সবই আমাদের জীবনের সঙ্গে মিলে মিশে ছিল। আছে।থাকবেও। সঙ্গে ছাতা নেই। বৃষ্টি এসেছে। অফিস ফের্তা মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দেয়। আবার ইস্কুল, কলেজ ফের্তা কিশোর-কিশোরী, তরুণ -তরুণী -- তাদের মনে বৃষ্টির ফোঁটা ফোঁটা জল, জীবনকে খুঁজে পাওয়ার একটা নতুন অর্থ এনে দেয়। জীবনকে জানবার মানে ও হয়তো তারা 'বরিষ ধরা মাঝে, শান্তির বারি' থেকে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করতে শুরু করে দেয়, তাদের যার যার নিজের নিজের মতো করে।
শেষে রবীন্দ্রনাথের ভাষাতেই বলতে হয়, 'তবু অনন্ত জাগে'। এই অনন্তের প্রত্যাশাতেই আমরা বরণ করে নিই প্রকৃতিরাণীর ধৌত, সিক্ত বেশকে।















