সেলিম মণ্ডল
ভা ন
ওভাবে দেশের দিকে তাকিও না
ওভাবে দশের দিকে তাকিও না
তোমার ক্ষুধার চোখ— কোনো তুলসীতলায় হারিয়ে যেতে পারে
উইঢিবির পাশে বসো কিছুক্ষণ
ঝুরঝুরে মাটি থেকে বেরিয়ে আসা পোকার সঙ্গে গল্প করো
বসো পচা ডোবার পাশে
দ্যাখো— সঙ্গমরত কাকের উল্লাস
আমাদের কাঠের চোখে পরিবর্তিত মানচিত্র ছিঁড়ে গেছে
রং নেই, পেনসিল নেই, সাদা পৃষ্ঠা নেই
আমরা তাকাচ্ছি
তাকিয়েই আছি— তুমুল ভানের ভিতর
প্লাসটিক মৌচাক থেকে গড়িয়ে পড়ছে রস—
দ ণ্ডা য় মা ন
ঘৃণায় ডুবে মরল যারা
তাদের কেউ কি আমার আত্মীয় নয়?
আধগলা জলে দাঁড়িয়ে যতবার উঠতে চেয়েছি ডাঙায়
অজস্র মাছ আটকে ধরেছে পা
আমি কি মৎসপ্রেমী?
আমার বঁটি নেই? উনুন নেই?
অথচ, ভালোবাসা ভালো বাসা করে
এক যুগ পেরিয়ে এসে— সাঁতার স্কুলে ভর্তি হচ্ছি
ঢেউ নেই, স্থির জল... আধগলা জল
ডুবছি না, দাঁড়িয়েই আছি
য দি বেঁ চে থা কি
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
একটি রবারের শিশু কাটাকুটি করা সাদা পাতার ওপর বসেও পৃথিবীকে মুছতে পারছে না।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
গৃহবধূর সিঁদুরে লেপটে কোনো টিকটিকি আবার বসতি স্থাপন করেছে।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
বৃদ্ধ পিতামাতার উঠোনে কাকেদের আকুতি, জল ঢালো, জল ঢালো।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
প্রেমিক-প্রেমিকার দল প্রজাপতির গর্ভে মরে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কেটে ফেলছে হাতের শিরা-উপশিরা।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
লাশ কাটা ঘরে শ্রমিকের উপচে পড়া ভিড়।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
মাঠের ধান, ইঁদুরের গর্তে বস্তা বস্তা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে গর্তকে পরিপূর্ণ করে তোলার জন্য।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
কারখানার গর্ভবতী ধোঁয়া উড়িতেছে, আরও বেগে উড়িতেছে, কারো উনুনের দু-পাশ দিয়ে।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
অ্যাম্বুলেন্সের ভিতর হাসপাতার ঢুকবে না, হাসাপাতালের ভিতর অ্যাম্বুলেস তা নিয়ে তীব্র তর্কাতর্কি চলছে।
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
নেতা, মন্ত্রী, শিল্পী সবাই হাতের গ্লাভস খুলে, স্যানিটাইজারবিহীন অন্যের হাতে মুখ লাগিয়ে হাসাহাসি করছে।
যদি বেঁচে থাকি
যদি বেঁচে থাকি, দেখব—
হা হা, হি হি শব্দেরা উড়ছে; পাখিরা পালাচ্ছে
গাছের পাতায় ধুলোর আকাশ মাটিকে ঠাট্টা করছে
দ্যাখ, শালা, দ্যাখ—
দ্যাখ
বি চ্যু তি
গা থেকে পোশাক নামিয়ে যত এগিয়ে যাচ্ছ
পিছন থেকে ধাওয়া করছে একদল মানুষ
তারা কিছুতেই তোমায় উলঙ্গ হতে দেবে না
তুমি, তোমার পোশাক রেখে পালাতে চাইছ অনেকদূর
অন্তত একজন এই ফেলে যাওয়া পোশাক গায়ে চাপাতে পারে
কিন্তু, অন্যরা ভয় পাচ্ছে তোমার বিচ্যুতিতে...
সু স্বা দু
মাংস দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিমান কোরো না
নিজেকে
ছিলে পোড়াও
তারপর সেই মাংস ছিঁড়ে ছিঁড়ে খাও
এর থেকে সুস্বাদু আর কোনো আহার পরিবেশন সম্ভব নয়















