চণ্ডী মুখোপাধ্যায়: এবারে সেরা বাংলা ছবি হিসেবে জাতীয় পুরষ্কার পেল অঞ্জন দত্তের ‘চালচিত্র এখন’।অঞ্জন দত্ত পরিচালিত 'চালচিত্র এখন' চলচ্চিত্রটি বাংলা সিনেমার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত, এবং নস্টালজিক ছবি। আত্মজৈবনিকও। অঞ্জনের নিজস্ব স্মৃতিমেদুরিতা ছড়িয়ে আছে সারা ছবিতে। আসলে মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই ছবির নির্মাণ। এটি কেবল একটি শ্রদ্ধার্ঘ্য নয়, বরং অঞ্জন দত্তের নিজের জীবনের এক চরম সত্যনিষ্ঠ আত্মোপলব্ধি এবং চলচ্চিত্রকার হিসেবে গড়ে ওঠার পেছনের গল্প। 

১৯৮১ সালে মৃণাল সেনের বিখ্যাত চলচ্চিত্র 'চালচিত্র' মুক্তি পেয়েছিল। সেই ছবিতে মৃণাল সেন এক তরুণ অভিনেতাকে পর্দায় নিয়ে আসেন, যার নাম ছিল অঞ্জন দত্ত।১৯৮১ সালে মৃণাল সেনের ‘চালচিত্র’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিনয়ে পা রেখেছিলেন তরুণ অঞ্জন দত্ত। চার দশক পর, সেই স্মৃতির পাতা উল্টে তিনি তৈরি করলেন ‘চালচিত্র এখন’। সেই ছবিটির নির্মাণের সময়কার অভিজ্ঞতা, মৃণাল সেনের সাথে অঞ্জন দত্তের রসায়ন, এবং কীভাবে একজন ক্ষ্যাপাটে, জেদি তরুণকে মৃণাল সেন নিজের হাতে গড়ে তুলেছিলেন—সেই সত্য ঘটনা অবলম্বনেই তৈরি হয়েছে 'চালচিত্র এখন'। স্বীকার করেছেন একজন উন্নাসিক থিয়েটার অভিনেতাকে কীভাবে চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে নির্মাণ করলেন মৃণাল সেন। কীভাবে ভালবাসতে শেখালেন নিজের শহর কলকাতাকে। 

 

ছবিটি মূলত দুটি মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন, বোঝাপড়া এবং এক গুরুর প্রতি শিষ্যের ভালবাসার দলিল। এখানে মৃণাল সেনের চরিত্রের নাম 'কুনাল সেন' (অভিনয় করেছেন অঞ্জন দত্ত নিজে) এবং তরুণ অঞ্জনের চরিত্রের নাম 'রঞ্জন' (অভিনয় করেছেন সাওন চক্রবর্তী)। ছবিটির পটভূমি ৮০-র দশকের কলকাতা। রঞ্জন একজন নাট্যকর্মী ও সাংবাদিক, যার চোখে স্বপ্ন বিদেশে গিয়ে নাট্যচর্চার। পরিচালক রঞ্জন সেনের সংস্পর্ষে এসে কীভাবে ঘটে গেল এক মেটামরফসিস। তাই নিয়েই ছবি ‘এখন চালচিত্র’।  

 

দুই সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজন্মের মানুষের মেলবন্ধন ঘটে চলচ্চিত্রে। কুনাল সেন কেবল একজন অভিনেতা হিসেবে নয়, বরং তাঁর নিজস্ব জীবনদর্শনের ছাঁচে গড়ে তুলতে চান। ৮০-র দশকের মধ্যবিত্ত কলকাতার দৈনন্দিন হাঁসফাঁস, বিদ্যুৎসঙ্কট, অর্থনৈতিক চাপ এবং সমান্তরাল চলচ্চিত্রের লড়াইয়ের ভেতর দিয়ে কীভাবে একজন তরুণ তাঁর গুরুর সান্নিধ্যে এসে জীবনকে নতুন চোখে দেখতে শেখে, সেটাই এই ছবির মূল রসদ। ছবিটির প্রাণভ্রমরা অঞ্জন দত্ত নিজে। একজন জীবন্ত কিংবদন্তিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা অত্যন্ত কঠিন কাজ ছিল, কিন্তু তিনি মৃণাল সেনকে অনুকরণ না করে তাঁর সত্তা ও মেজাজকে পর্দায় ধরেছেন। মৃনাল সেনের ধূমপানের ভঙ্গি, চশমার ফাঁক দিয়ে তাকানো, শিল্প নিয়ে আপসহীন মনোভাব এবং তরুণদের প্রতি সেই তীব্র শাসন ও আদরের মিশ্রণ—অঞ্জন দত্তের অভিনয়ে তা অতুলনীয় প্রাণ পেয়েছে। 

 

অঞ্জন দত্ত নিজের গুরুর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কোনও চটকদারিতা দেখাননি। মৃণাল সেনের হাঁটাচলা, কথা বলার ধরন, তাঁর চুরুট খাওয়ার স্টাইল এবং তাঁর ভেতরের সেই চিরতরুণ রাজনৈতিক ও সামাজিক চেতনাকে অঞ্জন বাবু দারুণভাবে পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন।তরুণ অঞ্জন দত্তের চরিত্রে চিত্রাঙ্গদ চক্রবর্তীর নির্বাচন এককথায় মাস্টারস্ট্রোক। তাঁর বিভ্রান্তি, গুরুর প্রতি ভয় ও ভক্তি, ভাল অভিনেতা হওয়ার তীব্র তাড়না এবং নিজের সত্তাকে ধরে রাখার লড়াই সায়ন অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। অঞ্জন দত্তের সঙ্গে তাঁর অন-স্ক্রিন রসায়ন ছবিটিকে এক অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে।আশির দশকের এক ছটফটে, ক্ষ্যাপাটে, কিছুটা অহংকারী অথচ ভেতরে ভেতরে অস্থির তরুণ অঞ্জন দত্তকে (রঞ্জন) পর্দায় জীবন্ত করে তুলেছেন সাওন। গুরুর সঙ্গে তাঁর তর্ক, রাগ, এবং শেষ পর্যন্ত গুরুর প্রতি এক অদ্ভুত সমর্পণ ছবিতে দারুণভাবে ফুটে উঠেছে।

 

অঞ্জন দত্ত এই ছবিতে কেবল নির্দেশক নন, তিনি একজন গল্পকথক। চিত্রনাট্যটি অত্যন্ত সাবলীল, যেখানে নস্টালজিয়া থাকলেও তা অতিরিক্ত মেলোড্রামায় পরিণত হয়নি। ছবিটি একটি বায়োপিক নয়, আবার সম্পূর্ণ কাল্পনিকও নয়। এটি 'মেমোয়ার' বা স্মৃতিকথার ঢঙে তৈরি। প্রথম দৃশ্য থেকেই ছবিটির আবহ দর্শকদের ৮০-র দশকের কলকাতায় নিয়ে যায়। সংলাপগুলো বেশ ধারালো, জীবন্ত এবং বুদ্ধিমত্তায় পূর্ণ। 

 

'চালচিত্র এখন' ছবিটি আশির দশকের কলকাতার আবহকে চমৎকারভাবে ফিরিয়ে আনে। তৎকালীন কলকাতার রাস্তাঘাট, ট্রাম, কফি হাউস এবং মধ্যবিত্ত জীবনের যে রূপ মৃণাল সেন তাঁর সিনেমাগুলোতে দেখাতেন, অঞ্জন দত্ত তাঁর এই ছবিতে সেই কলকাতার প্রতি এক গভীর ভালবাসা প্রকাশ করেছেন। মৃণাল সেনের সিনেমা মানেই ছিল সমাজভাবনা, রাজনীতি এবং মধ্যবিত্তের দ্বিচারিতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়া। 'চালচিত্র এখন' ছবিতে অঞ্জন দত্ত দেখিয়েছেন কীভাবে মৃণাল সেন (কুনাল সেন) সিনেমার মাধ্যমে সমাজকে দেখতে চাইতেন। রঞ্জনকে তিনি শেখাচ্ছেন কীভাবে সস্তা জনপ্রিয়তার পেছনে না ছুটে চারপাশের চেনা মানুষদের ভেতর থেকে গল্প খুঁজে নিতে হয়। এই ছবিতে মৃণাল সেনের সেই বিখ্যাত রাজনৈতিক সচেতনতা এবং সিনেমার প্রতি আপসহীন মনোভাবকে খুব সুন্দরভাবে উদযাপন করা হয়েছে। 

 

'চালচিত্র এখন' কেবল একটি বায়োপিক বা স্মৃতিকথা নয়। এটি আসলে একজন শিল্পীর গড়ে ওঠার গল্প। ছবিটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে:"একজন প্রকৃত মেন্টর বা গুরু কেবল কাজ শেখান না, তিনি জীবনের দৃষ্টিভঙ্গিটাই বদলে দেন।"আজকের করপোরেট ও বাণিজ্যিক সিনেমার যুগে দাঁড়িয়ে অঞ্জন দত্তের এই ছবিটি স্বাধীন চলচ্চিত্র নির্মাণের সেই পুরনো জেদ এবং আবেগকে মনে করিয়ে দেয়। এটি মৃণাল সেনের প্রতি যেমন অঞ্জনের ঋণ স্বীকার, তেমনই নতুন প্রজন্মের চলচ্চিত্রপ্রেমীদের জন্য এক দারুণ অনুপ্রেরণা। 

অঞ্জন দত্তের 'চালচিত্র এখন' বাংলা সিনেমার দর্শকদের জন্য একটি অত্যন্ত সৎ ও আবেগময় অভিজ্ঞতা। মৃণাল সেনের জন্মশতবর্ষে এর চেয়ে সুন্দর এবং ব্যক্তিগত উপহার আর কিছু হতে পারত না।  

'চালচিত্র এখন' শুধু দুজন মানুষের গল্প নয়, এটি আশির দশকের (১৯৮০-এর দশক) উত্তাল কলকাতার এক জীবন্ত দলিল।বামপন্থী চেতনা ও বুদ্ধিজীবী সমাজ: তৎকালীন সময়ে কলকাতার বুদ্ধিজীবী মহলে বামপন্থী মতাদর্শ এবং বিশ্ব চলচ্চিত্রের এক দারুণ প্রভাব ছিল। মৃণাল সেন (যিনি ছবিতে কুনাল সেন) ছিলেন সেই ধারার অন্যতম পুরোধা। বেকারত্ব ও মধ্যবিত্তের সংকট: ছবির অন্যতম মূল চরিত্র রঞ্জন (তরুণ অঞ্জন দত্ত) তৎকালীন কলকাতার এক প্রতিনিধি—যে ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা করেছে, থিয়েটার করে, কিন্তু যার কোনও স্থায়ী চাকরি নেই। মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপোড়েন, ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং চারপাশের রাজনৈতিক অস্থিরতা রঞ্জনের চরিত্রকে এক ধরণের ক্ষোভ ও জেদ দিয়েছিল, যা তৎকালীন যুবসমাজের একটি বড় অংশের বাস্তব চিত্র ছিল। সিনেমার মূল চালিকাশক্তি হল এই দুই অসমবয়সী মানুষের মধ্যকার আদর্শিক ও মানসিক দ্বন্দ্ব, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এক গভীর আত্মিক সম্পর্কে রূপ নেয়। শুরুর দিকে রঞ্জন নিজেকে খুব আধুনিক এবং বিশ্বমানের অভিনেতা-থিয়েটার কর্মী মনে করত। সে ইংরেজি থিয়েটার করত এবং বাংলা সিনেমার তৎকালীন ধারাকে কিছুটা অবজ্ঞার চোখেই দেখত। কুনাল সেনের মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরিচালকের ছবিতে অভিনয় করার সুযোগ পেয়েও তার মধ্যে এক ধরণের অহংকার এবং খ্যাপাটে ভাব ছিল। সে বারবার কুনাল সেনের কাজের ধারাকে চ্যালেঞ্জ করার চেষ্টা করত। 

 

কুনাল সেন, রঞ্জনের ভেতরের এই ছটফটানি এবং ক্ষোভকে খুব কাছ থেকে লক্ষ করেছিলেন। তিনি রঞ্জনকে ধমক দিয়ে বা শাসন করে নয়, বরং সিনেমার বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। তিনি রঞ্জনকে শিখিয়েছিলেন যে, অভিনয় মানে শুধু মুখে সংলাপ বলা বা মঞ্চে অঙ্গভঙ্গি করা নয়, অভিনয় হল নিজের চারপাশের সমাজকে অনুভব করা। ছবিতে দেখা যায়, কুনাল সেন রঞ্জনকে কলকাতার বস্তি, নিম্ন-মধ্যবিত্ত পাড়া এবং সাধারণ মানুষের খুব কাছে নিয়ে যাচ্ছেন। রঞ্জন যেখানে মধ্যবিত্তের জীবনকে আড়চোখে দেখত, কুনাল সেন তাকে সেই জীবনের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে তার ভেতরের কৃত্রিমতা ভেঙে চুরমার করে দেন। আবার 'চালচিত্র এখন' একটি চমৎকার 'মেটা-সিনেমা' বা সিনেমার ভেতরে সিনেমার গল্প। এখানে ১৯৮১ সালের 'চালচিত্র' সিনেমাটি কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তার পেছনের নেপথ্য কাহিনী দেখানো হয়েছে।  

   

অঞ্জন দত্ত এই ছবিতে দেখিয়েছেন কীভাবে একটি শটের জন্য মৃণাল সেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতেন, কীভাবে অভিনেতাদের থেকে সেরাটা বের করে আনার জন্য তিনি মনস্তাত্ত্বিক খেলা খেলতেন। সিনেমার পেছনের এই মেকানিজম বা নির্মাণ প্রক্রিয়া সিনেমাটোগ্রাফির শিক্ষার্থীদের জন্য এক দারুণ শিক্ষণীয় বিষয়। এই সিনেমার কাস্টিং বা চরিত্র নির্বাচন ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ মৃণাল সেনের মতো একজন কিংবদন্তিকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলা সহজ ছিল না। অঞ্জন দত্ত এখানে নিজেকে সরিয়ে রেখে পুরোপুরি মৃণাল সেন হয়ে উঠেছেন। চুরুট ধরার স্টাইল, চশমার ওপর দিয়ে তাকানো, গলার স্বরের ওঠানামা এবং শুটিং ফ্লোরে পরিচালকের সেই চেনা ছটফটানি—অঞ্জন দত্তের অভিনয়ে, মৃণাল সেন যেন পুনর্জন্ম নিয়েছেন। তবে এটি কোনও সস্তা মিমিক্রি বা নকল ছিল না, এটি ছিল একজন শিষ্যের চোখে তাঁর গুরুর প্রতিচ্ছবি। অভিনয়ে, সাওন ছিলেন এই ছবির অন্যতম বড় আবিষ্কার। আশির দশকের তরুণ অঞ্জন দত্তের যে শরীরী ভাষা, চুল ঠিক করার কায়দা, এবং চোখে এক ধরণের ক্ষ্যাপাটে চাউনি—তা সাওন অবলীলায় পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। অঞ্জন দত্তের মতো একজন পোড়খাওয়া অভিনেতার সামনে দাঁড়িয়ে তরুণ সাওনের এই অভিনয় সত্যিই প্রশংসনীয়। ছবিতে মৃণাল সেনের স্ত্রী গীতা সেনের চরিত্রে যিনি অভিনয় করেছেন, তাঁর পর্দায় উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত স্নিগ্ধ এবং তা মৃণাল সেনের পারিবারিক জীবনের এক শান্ত ও সহায়তাকারী রূপকে তুলে ধরে।  

 

শব্দ বা সাউন্ড ডিজাইন: মৃণাল সেনের সিনেমায় শব্দের ব্যবহার ছিল খুব গুরুত্বপূর্ণ। অঞ্জন দত্ত এই ছবিতেও সেই ধারা বজায় রেখেছেন। আশির দশকের কলকাতার ট্রামের আওয়াজ, রাজপথের কোলাহল, চায়ের দোকানের কাপ-প্লেটের শব্দ এবং শুটিংয়ের ভেতরের নিস্তব্ধতা খুব যত্ন সহকারে ব্যবহার করা হয়েছে। নীল দত্তের সঙ্গীত পরিচালনায় ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর খুব চড়া নয়। যেখানে নীরবতার প্রয়োজন, সেখানে নীরবতাকেই কথা বলতে দেওয়া হয়েছে। জ্যাজ এবং ক্লাসিক্যাল ঘরানার এক অদ্ভুত মিশ্রণ ছবির নস্টালজিয়াকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ছবিটির ভিজ্যুয়াল টোন বা রঙের ব্যবহারে একটা মনমরা অথচ মায়াবী আশির দশকের আমেজ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত উজ্জ্বল রঙ বর্জন করে কিছুটা কালচে ও ধূসর টোন ব্যবহার করা হয়েছে, যা তৎকালীন কলকাতার বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তোলে। 

 

অঞ্জন দত্ত নিজে যখন পরবর্তীতে পরিচালক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন (যেমন: 'বং কানেকশন', 'রঞ্জনা আমি আর আসব না', 'দত্ত অ্যান্ড বৌদি' ইত্যাদি), তাঁর ছবিতে এক ধরণের ওয়েস্টার্ন বা আধুনিক ঘরানা দেখা যেত। কিন্তু 'চালচিত্র এখন' ছবিতে অঞ্জন দত্ত যেন তাঁর নিজের শিকড়ে ফিরে গেছেন। 

 

তিনি দেখিয়েছেন যে, তাঁর গানের ভেতরের যে সাধারণ মানুষের গল্প বা তাঁর ছবির যে মধ্যবিত্তের টানাপোড়েন—তার বীজ আসলে রোপণ করেছিলেন মৃণাল সেনই। এই ছবিটি অঞ্জন দত্তের নিজের জীবনের এক ধরণের 'কনফেশন' বা স্বীকারোক্তি, যেখানে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন যে আজ তিনি যা, তার পেছনে মৃণাল সেনের অবদান কতটা গভীর ছিল। 

 

'চালচিত্র এখন' কেবল একটি স্মৃতিচারণ নয়, এটি হল এক শিল্পীর দ্বারা অন্য এক মহান শিল্পীকে দেওয়া অন্যতম সেরা ভিজ্যুয়াল ট্রিবিউট। এটি আবেগ, রাজনীতি, সিনেমা এবং জীবনের এমন এক কোলাজ যা দর্শককে সিনেমা শেষ হওয়ার পরও অনেকক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখে।