বুধবার ২৪ এপ্রিল ২০২৪

সম্পূর্ণ খবর

EXCLUSIVE: জগাখিচুড়ি ছবি বানিয়ে বাংলা ছবির পাশে থাকার স্লোগান! কী হাস্যকর: ওম সাহানি

শ্যামশ্রী সাহা | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ ১৯ : ২৩


একটা সময় কাজের পিছনে দৌড়েছেন। এখন কাজ ওম সাহানির পিছনে! ছোটপর্দার দৌলতে অন্দরমহলে ‘ওঙ্কার’চর্চা। লম্বা রেসের ঘোড়া হতে আর কী করছেন? জেনে নিলেন শ্যামশ্রী সাহা

প্রশ্ন: প্রেমে পড়ে ওঙ্কারের জীবন কতটা বদলেছে?
ওম: কালারফুল হয়ে গিয়েছে। অনেক কিছু বদলে যায়। বিশেষ করে ছেলেদের। প্রেমে পড়ার আগে একটু ছন্নছাড়া থাকে। ভালবাসলে কেয়ারিং হয়ে যায়। আগে শুধু নিজের জগতে থাকতাম। প্রেমে পড়ে ভালবাসার মানুষকে নিয়ে ভাবতে শুরু করেছি। 
প্রশ্ন: ইদানীং লাভ, বিয়ে- আজকাল কতটা বদলেছে? 
ওম: আজ থেকে ১০ বছর আগে লুকিয়ে প্রেম করতে হত। বাড়িতে কেউ যেন জানতে না পারে। এখন সেটা নেই। সবাই ওপেন রিলেশনশিপে বিশ্বাসী। লিভ-ইন নিয়ে মা-বাবারও সমস্যা নেই। এটা ভাল হয়েছে। নিজের পছন্দের মানুষের সঙ্গে বিয়ে না করেও থাকার, তাকে বোঝার সুযোগ পাচ্ছে। রোনাল্ডোকে দেখুন, লিভ-ইন করে পাঁচ সন্তানের বাবা।
প্রশ্ন: ব্রেকআপ-ডিভোর্স তো বেড়েছে?
ওম: আগে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ থাকত না। সমাজে চক্ষুলজ্জার ব্যাপার ছিল। সব অসুবিধা সহ্য করতে হত। এখন সবাই আগে নিজে ভাল থাকতে চায়। ব্রেকআপ বা ডিভোর্স হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এটা এক দিক থেকে ভাল। এখন মানুষ সিদ্ধান্ত নিতে পারছে, কার সঙ্গে জীবন কাটাবে, কার সঙ্গে কাটাবে না।
প্রশ্ন: ১০ বছর পর আবার টেলিভিশনে ফিরতে হল?
ওম: আমি কাজ করতে চাই। এতদিন ধরে যে কাজ করছিলাম, তাতে মজা পাচ্ছিলাম না। এসকে মুভিজের সঙ্গে ১০ বছর কন্ট্রাক্টে ছিলাম। ওরা আমাকে বছরে দুটো ছবি করাত। বাকি সময় বসে থাকতাম। এখন এক মাসে দুটো ছবি হয়ে যায়। বাইরে কোনও কাজ করতে পারতাম না, কারওর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতাম না, মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না। হাত-পা বেঁধে দিয়েছিল। যা ছবি করতাম তার এক্সপোজারও ছিল না। আমি এখন বারো মাস কাজ করতে চাই। নিজের স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারব না। ছবি করতে চাইনি। কারণ সেই বছরে দুটো ছবির কাজ। টেলিভিশনে রোজ কাজ করতে পারব। চর্চায় থাকতে পারব। আরও একটা কারণ অর্থ। টেলিভিশন অভিনেতা-অভিনেত্রীকে শিরদাঁড়া সোজা করে দাঁড়াতে শেখায়। অভিনেতাদের বাঁচিয়ে রাখে। যাঁরা সিনেমা করেন তাঁরাও টেলিভিশনে কাজ করতে আসেন। 
প্রশ্ন: ‘লাভ-বিয়ে-আজকাল’-এর গল্প না বড় ব্যানার, কোনটা আকর্ষণীয় ছিল?
ওম: দুটোই। এই প্রোডাকশন হাউজের সুনাম আছে। আমার স্ত্রী মিমি অনেকদিন কাজ করেছে। ওই আমাকে বলল, এই সুযোগ চট করে আসে না। এই হাউজে কাজ করলে আর কিছু ভাবতে হবে না। গল্পটা যখন শুনলাম ইন্টারেস্টিং লাগল।
প্রশ্ন: গল্প একটু এগোতেই নায়িকা বদলে গেল…
ওম: প্রেসার নিতে পারেনি। ধারাবাহিকে নায়িকার দায়িত্ব অনেক বেশি। প্রতিদিন ফ্লোরে হাতে সিন পেয়ে মুখস্থ করে অভিনয় করা। অভিজ্ঞতা, সাহস দুটোই দরকার। ও হয়তো প্রসেসটা বুঝতে পারেনি। 
প্রশ্ন: এই হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়েছে?
ওম: হ্যাঁ। একটু সমস্যা হয়েছে। তবে, ওঙ্কার-শ্রাবণের সম্পর্কের শুরুতেই নায়িকা বদল হওয়ায় খুব অসুবিধা হয়নি। তৃণাকে আগে থেকেই চিনতাম, কাজ করেছি। তৃণাও প্রফেশনাল, সামলে নিয়েছি।  
প্রশ্ন: শুরুতে ভাল ব্যানারে, ভাল অভিনেত্রীর বিপরীতে কাজ। ‘রঙ্গবতী’ হিট। কিন্তু পরিচিতি পেতে অনেকটা সময় লেগে গেল না?
ওম: ওই যে বললাম, আমার হাত-পা বাঁধা ছিল। ‘রঙ্গবতী’র সময় শিবুদা (শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়) নিজে ওই হাউজের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। ওরা না বলতে পারেনি। এসকে মুভিজের সব ছবিই ছিল বাংলাদেশের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায়। ছবি রিলিজ করেনি। তাই কাজ করেছি। কিন্তু লোকে জানতে পারেনি।
প্রশ্ন: ভুল সিদ্ধান্ত ছিল?
ওম: একদমই। আমি কাজ পাওয়ার জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলাম। আমাকে কাজ দিয়েছে, এক্সপোজার দেয়নি। 
প্রশ্ন: শিবুদার থেকে আর কোনও কাজের সুযোগ আসেনি?
ওম: এসেছিল। শিবুদার আমাকে আর মিমিকে নিয়ে একটা টেলিভিশন শো করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু ওই চুক্তির জন্য সেটা করা হয়নি।



প্রশ্ন: নাচ জানেন বলে কাজে কোনও সুবিধা হয়েছে?
ওম: নাচ আমার ভাললাগার জায়গা। পরে বুঝেছি, শুধু নাচ দিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রথম সারিতে থাকা যাবে না। অভিনয়টাও জানতে হবে।
প্রশ্ন: এতদিন কাজ করছেন, মনের মত চরিত্র পেয়েছেন?
ওম: এখনও পাইনি। এমন একটা চরিত্রে কাজ করার ইচ্ছে আছে যেখানে ডান্স এবং অভিনয়ের জায়গা আছে। ‘ফাইটার’-এ যেমন। একজন আর্মি অফিসার কী দারুণ ডান্স করতে পারে। নতুন ধরনের কাজ করতে চাই। এখানে তো বলিউড থেকে কোরিওগ্রাফার নিয়ে আসে, সবই বলিউডের কপি। অ্যা্কশন, নাচ সবই বলিউডের মত। কোরিওগ্রাফি মানেই এখন হয় বাবা যাদব নয় আদিল। নাচগুলোও সব একই রকম। ইন্ডাস্ট্রি আমাদের। কাজ করার জন্য লোক আসছে বলিউড থেকে! ওরাও ‘ধর তক্তা মার পেরেকে’র মতো কাজ করে চলে যাচ্ছে। মুম্বইয়ের কোরিওগ্রাফার আমার যে কটা নাচের কোরিওগ্রাফি করেছে একটাও হিট হয়নি।
প্রশ্ন: ‘রঙ্গবতী’ ছাড়া…
ওম: শিবুদা কিন্তু এই আইটেম সং-এর জন্য মুম্বই থেকে কোরিওগ্রাফার আনেননি। বান্টিদা কোরিওগ্রাফি করেছিলেন।  
প্রশ্ন: সেই জন্যই হাতেগোনা বাংলা ছবি সফল হচ্ছে?
ওম: হ্যাঁ। সাবজেক্টটা স্ট্রং হতে হবে। শুধু সত্যান্বেষী বা গ্রামের গল্প দিয়ে হবে না। দক্ষিণী ছবির কথাই যদি ধরি ‘কান্তারা’য় ডিরেক্টর, রাইটার অ্যাক্টর একজনই। নিজেকে কীভাবে প্রেজেন্ট করেছে!
প্রশ্ন: মানে এমন ছবি করতে চান যেখানে আপনি ডিরেক্টর, অ্যাক্টর?
ওম: হ্যাঁ। জানি না এখানে সেটা সম্ভব হবে কিনা। যে ক’টা বাংলা ছবি সফল হচ্ছে সেখানে ডিরেক্টর শুধু পরিচালনায় নয় চিত্রনাট্য, সংলাপ সব কিছুর সঙ্গে যুক্ত। বাকি ছবিতে পরিচালনা, এডিট, মিউজিক, অভিনয়ে আলাদা আলাদা লোক। সব মিলিয়ে জগাখিচুড়ি। এসব করে আবার তাঁরাই বলছেন, বাংলা সিনেমার পাশে থাকতে। পুরো ব্যাপারটাই হাস্যকর। এমন প্রোডাক্ট বানাতে হবে যা অন্য ভাষার দর্শকও দেখবেন।
প্রশ্ন: আপনি খুব ভাল নাচেন, কোরিওগ্রাফার হওয়ার ইচ্ছে হয়নি?
ওম: যখন শুধু ডান্স নিয়ে ভাবতাম, তখন কোরিওগ্রাফার হব এরকম একটা ইচ্ছে হয়েছিল। জিৎদা, মিঠুনদার ছবিতে অ্যাসিট্যান্ট কোরিওগ্রাফারের কাজ করেছি। ওটা দিয়ে আমার যে স্বপ্ন সেটা পূরণ হবে না বুঝতে পারছিলাম। ওখানে আরও ট্যালেন্ট প্রয়োজন, স্ট্রাগল অনেক বেশি। 
প্রশ্ন: অভিনেতা হিসাবে কতটা এগোতে পেরেছেন?
ওম: এখন হাতে কাজ রয়েছে, ডেট খালি নেই। মনে হচ্ছে কিছু করতে পেরেছি। এভাবে কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকলে আগামিদিনও ভালই হবে।
প্রশ্ন: ‘লাভ বিয়ে আজকাল’-এর পর কী?
ওম: নিজের প্রোজেক্ট নিয়ে কাজ করব বড়পর্দার জন্য।



বিশেষ খবর

নানান খবর

WORLD BOOK and COPYRIGHT DAY #aajkaalonline #WorldBookandCopyrightDay

নানান খবর

সোশ্যাল মিডিয়া