আজকাল ওয়েবডেস্ক: গোথিয়া কাপ ফাইনাল খেলতে নেমে সুইডেনে ইতিহাস গড়ল ভারত। পাশাপাশি, ইতিহাস গড়ল ভারতীয় ফুটবলও। দ্বিতীয়বারের মতো গোথিয়া কাপ জিতে নিল মিনার্ভা অ্যাকাডেমি এফসি। শনিবার ফাইনাল খেলতে নেমে আর্জেন্টিনার সিইএফ ১৮ টুকুমানকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে দেশের সেরা হল মিনার্ভার যুবরা। বিশ্ব যুব ফুটবলের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই প্রতিযোগিতার শিরোপা জিতে নিল ভারতের ক্লাবটি। ২০২৩ সালে প্রথম ভারতীয় ক্লাব হিসেবে গোথিয়া কাপ জিতে নজির গড়েছিল মিনার্ভা। এবার ফের একবার মেসির দেশের ক্লাবকে দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে ফের একবার ভারতবর্ষকে গর্বিত করল যুবরা।
শনিবার ৪০ মিনিটের ফাইনাল ম্যাচে আর্জেন্টিনার ক্লাবকে একপ্রকার হেলায় হারিয়ে ম্যাচ পকেটে পুরে নেয় মিনার্ভা অ্যাকাডেমির ছেলেরা। ফাইনাল ম্যাচের শুরু থেকেই দাপুটে ফুটবল খেলে ম্যাচের রাশ নিজেদের দখলে রেখে দিয়েছিল মিনার্ভা অ্যাকাডেমির ফুটবলাররা। তবে টানা বলের দখল রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ছিল মিনার্ভার কাছে। আর্জেন্টিনার টুকুমানও প্রথমার্ধে বেশ কয়েকবার ভাল সুযোগ তৈরি করে। প্রথমার্ধের মাঝপথেই মিনার্ভার গোল লক্ষ্য করে লং রেঞ্জার নিয়েছিল টুকুমান। কিন্তু তারপরেও গোল আসেনি। উল্টে ১৫ মিনিটে ভারতের রিথাম গোল করে এগিয়ে দেন মিনার্ভাকে।

১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা। ভারতীয় ক্লাবের খেলা পুরোপুরি পাল্টে যায় দ্বিতীয়ার্ধে। মিনার্ভা অ্যাকাডেমির একের পর এক বিষাক্ত আক্রমণের কোনও জবাব ছিল না মেসির দেশের ক্লাবের কাছে। ম্যাচের ২৯ থেকে ৩৫ মিনিটের মধ্যে মাত্র ছ’মিনিটে পরপর তিন গোল করে ম্যাচের রাশ পুরোপুরি চলে আসে মিনার্ভার হাতে। ২৯ মিনিটে ইয়োহেনবা, ৩২ মিনিটে রাজ ও ৩৪ মিনিটে ডেনামনি গোল করে দলের স্কোর পৌঁছে দেন ৪-০ তে।
আরও পড়ুন: বিস্কুটের পেটিতে 'কুবেরের ধন', উঠে এল আন্তর্জাতিক চক্রের হাত, প্রশ্ন উঠেছে এল কোথা থেকে?
মাঠে প্রচুর ভারতীয় সমর্থক ছিলেন। ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন দর্শকরা। সেরা খেলোয়াড় হিসেবে নির্বাচিত হন মিনার্ভার ইয়োহেনবা সিং। গোটা টুর্নামেন্টে মিনার্ভার পারফরম্যান্স ছিল নজরকাড়া। গোথিয়া কাপে তারা সাতটি ম্যাচে মোট ৫১ গোল করেছে, হজম করেছে মাত্র একটি। এর আগে হেলসিঙ্কি কাপে দারুণ ভাবে শুরু করেও ফিনল্যান্ডের একটি ক্লাবের কাছে ১-০ গোলে হেরে গিয়েছিল মিনার্ভা। সেই হার থেকে শিক্ষা নিয়েই গোথিয়া কাপে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন করল ভারতের ক্লাবের যুবরা। ভারতীয় ফুটবলের জন্য এ এক গর্বের মুহূর্ত।
















