আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্প্রতি ডিজিটাল যুগে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটা ট্রেন্ড। দিনে দিনে অনুসারীদের খোঁজা অনলাইন উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। এর ফলে কিছু ব্যবহারকারী তাঁদের অনুসারীর সংখ্যা বাড়ানোর জন্য ভাবনাচিন্তা না করে চরম পর্যায়ে চলে যান। এসবের মধ্যে রয়েছে নানারকম আপত্তিকর এবং অশ্লীল কন্টেন্ট তৈরি করা। জানা গিয়েছে, বর্তমানে এর জন্য মোটা টাকার জরিমানা দিতে হতে পারে। 

এমনই এক বিকট কন্টেন্ট বানিয়ে উত্তর প্রদেশের সম্ভালের দুই যুবতী সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছেন। খবরে জানা গিয়েছে, এই ধরণের আপত্তিকর ইন্টারনেট কন্টেন্ট বন্ধ করার প্রয়াসে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে৷ এই কেন্দ্রিক মঙ্গলবার সম্ভাল পুলিশ তিনজন যুবতী এবং এক যুবককে গ্রেপ্তার করে। অশ্লীল ভিডিও এবং অশ্লীল ভাষা সহ একটি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে অভিযুক্তদের। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে অভিযুক্তরা প্রতি মাসে এমন ধরণের কন্টেন্ট বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে প্রায় ২৫,০০০ থেকে ৩০,০০০ টাকা আয় করতেন।

পুলিশ সুপার (এসপি) কৃষ্ণ কুমার বিষ্ণোই প্রকাশ করেছেন,  আসমোলি থানা এলাকা থেকে গোপন সূত্রে খোঁজ পায় তারা৷ তথ্য পাওয়ার পর তাদের হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তের সময় জানা গিয়েছে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টগুলি যথাক্রমে মেহরুল নিশা ওরফে পরী, মেহক এবং হিনা নামে তিন মহিলা দ্বারা পরিচালিত হত। এঁরা অনলাইনে আরও বেশি ফলোয়ার পেতে নানারকম আপত্তিকর ভিডিও বানিয়ে আপলোড করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ আমি গুহায় সন্তান জন্ম দিয়েছি ' রাশিয়ান যুবতীর চাঞ্চল্যকর দাবি! সত্য জানলে শিউরে উঠবেন

অন্যদিকে, জারার আলম নামে এক যুবকও কন্টেন্ট তৈরি করতেন। ভিডিওগুলি সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারে জড়িত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এসপি বিষ্ণোই দাবি করেছেন, এই গোষ্ঠীটি তাদের দর্শক ( ফলোয়ার) সংখ্যা বৃদ্ধি করতে সবকিছু করতে পারে। তারা প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করছেই উস্কানিমূলক ভিডিও থেকে ধারাবাহিকভাবে আয় করতে। 'প্রত্যেকেরই সামাজিক প্ল্যাটফর্মে নিজেদের প্রকাশ করার অধিকার আছে, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে কেউ জনসাধারণের শালীনতা এবং সামাজিক রীতিনীতি উপেক্ষা করতে পারে,' তিনি জানান। 

ঘটনার জেরে রবিবার আসমোলি থানায় মেহক ও পরীর বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁদের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। বিএনএস ধারা ২৯৬(বি) (অশ্লীল কাজ এবং গান) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা ৬৭ এর অধীনে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আদালতের নির্দেশে চার অভিযুক্তকে হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। 

কর্তৃপক্ষ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের প্রতি কঠোর সতর্কবার্তা জারি করে। আপত্তিকর বিষয়বস্তু শেয়ার বা উৎসাহিত না করার জন্য তাদের সতর্ক করে। খবর অনুসারে, 'সোশ্যাল মিডিয়াকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ও শালীনতা বজায় রেখে ব্যবহার করুন,' এসপি আরও যোগ করেছেন।

এমন ধরণের কন্টেন্ট ফলোয়ার পাওয়ার একটি সহজ উপায় হলেও, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বা আপত্তিকর কন্টেন্ট তৈরি করা উল্লেখযোগ্য ঝুঁকি এবং আইনি সমস্যা নিয়ে আসে। এটি ইন্টারনেটে খ্যাতির উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি সাইবার বুলিং বা হয়রানির কারণ হতে পারে।